
কলকাতা: ফের খবরের শীর্ষে মুর্শিদাবাদ। এবার জলঙ্গি থানার বিদুপুর থেকে আটক ৭ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী (Murshidabad)। অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে ভুয়ো নথি বানিয়ে বাংলায় বসবাস করছিল এরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৫ মে সোমবার গভীর রাতে জলঙ্গি থানার পুলিশ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন বিদুপুর এলাকায় অভিযান চালায়।
জলঙ্গি থানার বিদুপুর এলাকায় গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে গতকাল রাত্রে অভিযান চালায় পুলিশ, সেই অভিযানে ৭ জন বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করে। ধৃত সকলেরই বাড়ি দৌলতপুর থানা এলাকার কুষ্টিয়া জেলায় বলে খবর ধৃতদের আজ লালগোলার হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। pic.twitter.com/O5CFI6SG4O
— Tolamul Monitor (@TMCWatch) May 26, 2026
সীমান্তের কাছাকাছি সন্দেহজনক গতিবিধির খবর পাওয়ার পরই এই বিশেষ তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। অভিযানের সময় সাতজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ এবং নথি যাচাইয়ের পর পুলিশ নিশ্চিত হয় যে ধৃতরা বাংলাদেশের নাগরিক এবং অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃতদের বাড়ি বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানা এলাকায়। পুলিশ সূত্রের দাবি, এদের মধ্যে কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকের কাজ করছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে ভুয়ো পরিচয়পত্র ও নথি তৈরি করে বসবাস করছিলেন। কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এরা ভারতে প্রবেশ করেছিল এবং কারা এই নথি তৈরিতে সাহায্য করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ বন্ধ হচ্ছে না লক্ষ্মীর ভাণ্ডার! কাল থেকেই চালু ‘অন্নপূর্ণা’র ফর্ম ফিলআপ, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
মঙ্গলবার ধৃত সাতজনকে মুর্শিদাবাদের লালগোলার নবনির্মিত হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সেখানেই রাখা হবে। পরে কেন্দ্রীয় ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লালগোলার এই হোল্ডিং সেন্টার এখন বিশেষভাবে আলোচনায়। বাহাদুরপুর পঞ্চায়েত সংলগ্ন তিনতলা ‘পদ্মা ভবন’-এ গড়ে তোলা হয়েছে এই বিশেষ কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরের নির্দেশে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে সাময়িকভাবে আটকে রাখার জন্য এই ধরনের হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, যাদের নাগরিকত্ব বা বৈধ নথি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পাঠানোর আগ পর্যন্ত এই কেন্দ্রগুলিতে রাখা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অনুপ্রবেশের সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে নদীপথ এবং কাঁটাতারের ফাঁক গলিয়ে অনেকেই এপারে ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ। ফলে সাম্প্রতিক এই গ্রেফতারি প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সীমান্তে নজরদারি আরও কড়া করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। অন্যদিকে শাসক শিবিরের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অবৈধভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মোবাইল ফোন, নথি এবং যোগাযোগের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, এদের সঙ্গে কোনও বড় চক্র যুক্ত রয়েছে কি না। কারণ ভুয়ো নথি তৈরি করে দীর্ঘদিন রাজ্যে বসবাস করা সহজ নয় বলেই মনে করছে প্রশাসন। সেই কারণেই গোটা ঘটনায় আন্তঃরাজ্য বা আন্তঃসীমান্ত চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।







