ঢাকা: পদ্মাপাড়ে শেষ হল জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন (Muhammad Yunus)সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূসের একটি বক্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভোটদানের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আজ নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন। আমরা সারাদিন এই জন্মদিন উদযাপন করব।” সেই সঙ্গে তিনি বলেন এই নির্বাচনের মধ্যে দিয়েই তিনি নতুন ইসলামপন্থী বাংলাদেশের জন্ম দেবেন।
এই কথা শুনে অনেকে অবাক হয়েছেন, কারণ গত কয়েক মাস ধরে দেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ, মন্দির ভাঙচুর এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক এবং সংখ্যালঘু মহল ইউনূসের মন্তব্যকে ঘিরে কটাক্ষ করেছে। তাদের মতে নির্বাচন শেষ হতেই নিজের রং পরিবর্তন করেছেন হাফ নোবেল জয়ী ইউনুস। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায়।
আরও দেখুন: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, নামিবিয়ার বিরুদ্ধে টসে হার ভারতের
এই সময়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ‘মুছে ফেলা’র অভিযোগ উঠেছে এবং ইসলামী মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোকে আরও শক্তিশালী হতে দেওয়া হয়েছে বলে সমালোচকরা বলছেন। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। ২০২৫ সালে সরকারি হিসাবে ৬৪৫টি সংখ্যালঘু-সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৭১টি সাম্প্রদায়িক বলে চিহ্নিত।
কিন্তু হিন্দু সংগঠনগুলো দাবি করছে, আসল সংখ্যা অনেক বেশি। মন্দিরে আগুন, মূর্তি ভাঙা, জমি দখল, এমনকি খুনের ঘটনাও ঘটেছে। নির্বাচনের ঠিক আগে এক হিন্দু ব্যবসায়ীর খুনের ঘটনা সারা দেশে আলোড়ন তুলেছে।ইউনূসের সমালোচকরা বলছেন, তিনি উদারপন্থী হিসেবে পরিচিত হলেও বাস্তবে ইসলামী মৌলবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন।
জামায়াতে ইসলামীকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, আওয়ামী লীগ নেতাদের হয়রানি এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা এসবের মধ্য দিয়ে তিনি একটা ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার নামে ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। একজন সমালোচকের ভাষায়, “১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সেক্যুলার চেতনাকে মুছে ফেলে ইসলামী পরিচয় দিতে চাইছেন। হিন্দুদের ওপর আক্রমণ চলছে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, আর তিনি বলছেন ‘নতুন বাংলাদেশের জন্ম’!
এর চেয়ে বড় ঔদ্ধত্য আর কী হতে পারে?”অন্যদিকে, ইউনূসের সমর্থকরা বলছেন, এই নির্বাচন ও গণভোট ছিল গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের মাইলফলক। হাসিনার আমলে একদলীয় শাসনের অবসান ঘটেছে। তিনি বলেছেন, “আমরা একটা দুঃস্বপ্নের অতীতকে প্রত্যাখ্যান করেছি। আজ থেকে নতুন স্বপ্নের শুরু।” তাঁরা দাবি করেন, সংখ্যালঘু-সংক্রান্ত অধিকাংশ ঘটনা অপরাধমূলক, সাম্প্রদায়িক নয়।
বিদেশি মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘হিন্দু গণহত্যা’র গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।কিন্তু বাস্তবতা অনেক জটিল। নির্বাচনের দিন শান্তিপূর্ণভাবে কেটেছে বলা হলেও, তার আগে সংখ্যালঘুরা ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ভয় প্রকাশ করেছিলেন। কয়েকটি হিন্দু সংগঠন নিরাপত্তার দাবিতে ভোট বর্জনের হুমকি দিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে ইউনূসের ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’ বলা অনেকের কাছে অস্বস্তিকর লাগছে। কারণ যে দেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, সেখানে ‘নতুন’ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে সেক্যুলার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা না ধর্মীয় পরিচয়ের প্রাধান্য?




















