বিট্টু দত্ত, কলকাতা: দারুণ সূচনা করেও মাঝপথে ছন্দ হারিয়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। টানা কয়েকটি ম্যাচে জয় না আসায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল দলের ধারাবাহিকতা নিয়ে। তবে গত ম্যাচে পাঞ্জাব এফসিকে হারিয়ে আবার জয়ের রাস্তায় ফিরেছে সের্খিও লোবেরার দল। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আজ রবিবার সন্ধ্যায় গুয়াহাটির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নামছে সবুজ-মেরুন শিবির। প্রতিপক্ষ নর্থইস্ট ইউনাইটেড।
লিগ তালিকায় নর্থইস্ট খুব একটা সুবিধাজনক জায়গায় নেই। আট ম্যাচে মাত্র একটি জয় পেয়েছে তারা। মোট সাত পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে নিচের দিকেই। তবু প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিতে নারাজ মোহনবাগান কোচ। বরং ম্যাচের আগে সতর্কবার্তাই শোনালেন লোবেরা। তাঁর মতে, নর্থইস্টের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের গতি এবং দ্রুত রূপ বদলানোর ক্ষমতা। আক্রমণ থেকে রক্ষণে, আবার রক্ষণ থেকে আক্রমণে খুব কম সময়েই তারা নিজেদের বদলে নিতে পারে। তাই এই ম্যাচে এক মুহূর্তের ঢিলেমিও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।
লোবেরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সহজ ম্যাচ ভেবে মাঠে নামলে বিপদ বাড়বে। তিনি বলেছেন, প্রতিপক্ষের অ্যাটাকিং ফুটবলাররা দ্রুতগতির এবং সুযোগ পেলেই চাপ তৈরি করতে পারে। ফলে নিজের দলকে পুরো সময় মনোযোগী থাকতে হবে। কোচের এই সতর্কতার পেছনে রয়েছে নিজের দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও। গত মরশুমে যে ধারাবাহিকতা দেখা গিয়েছিল, এ বার তা এখনও পুরোপুরি দেখা যাচ্ছে না। মোহনবাগানের আক্রমণভাগে জেমি ম্যাকলারেন, দিমিত্রি পেত্রাতোস ও জেসন কামিংসের মতো তারকা থাকলেও তাঁদের খেলা এখনও প্রত্যাশামতো ধারালো হয়নি। গতির দিক থেকেও আগের মতো ঝলক সব ম্যাচে দেখা যায়নি। ফলে দ্রুতগতির দলের বিরুদ্ধে নামার আগে কিছুটা চিন্তা থাকছেই। মাঝমাঠ ও ডিফেন্সকে আরও সুশৃঙ্খল হতে হবে বলেই মনে করছে কোচিং স্টাফ।
দলের চোট সমস্যা নিয়েও কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। আপুইয়া পুরোপুরি ফিট নন, তাই তাঁর খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এছাড়া আলবের্তোর অবস্থাও এখনও পরিষ্কার নয়। যদিও তিনি অনুশীলনে ফিরেছেন, শেষ মুহূর্তে তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নর্থইস্টের আগের মরশুমের অন্যতম ভরসা আলাদিন আজারাই এ বার দলে নেই। তবে বিদেশিদের মধ্যে স্পেনের অ্যান্ডি নিয়মিত ভালো খেলছেন। তাঁর উপরই আক্রমণের বড় দায়িত্ব থাকবে।
তাই প্রতিপক্ষকে দুর্বল ভাবার কোনও সুযোগ নেই। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান মোহনবাগানের সামনে চাপ তৈরি করছে। এ মরশুমে এখনও পর্যন্ত অ্যাওয়ে ম্যাচে জয় পায়নি তারা। ফলে গুয়াহাটির এই ম্যাচ শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, বাইরে জয়ের খরা কাটানোরও বড় সুযোগ। দিমিত্রি, কামিংস, ম্যাকলারেনদের সামনে তাই আজ দ্বিগুণ চ্যালেঞ্জ, নিজেদের সেরা ছন্দে ফেরা এবং প্রতিপক্ষের মাঠে জয় ছিনিয়ে আনা।




















