বিট্টু দত্ত, কলকাতা: ইন্ডিয়ান সুপার লিগের লড়াইয়ে বড় সুবিধাজনক জায়গায় উঠে গেল মোহনবাগান। গুয়াহাটিতে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে তারা এখন পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। ৯ ম্যাচ শেষে সবুজ-মেরুন শিবিরের ঝুলিতে ২০ পয়েন্ট। সবচেয়ে বড় বিষয়, এই জয়ের পর তারা দীর্ঘ ১৯ দিনের বিরতি পাচ্ছে, যা দলের জন্য বাড়তি স্বস্তি এনে দিয়েছে। মোহনবাগানের পরের ম্যাচ ৯ মে, গোয়ায় এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে।
এই বিরতির মধ্যে দলের চোট পাওয়া দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার আলবার্তো রদ্রিগেস এবং আপুইয়া পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন বলে আশা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। কোচ সের্খিও লোবেরা আপাতত অনুশীলনেও ছুটি দিয়েছেন ফুটবলারদের। ফলে ব্যস্ত সূচির মাঝে এই বিশ্রাম দলকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেকটাই সতেজ করে তুলবে। লিগের খেতাবের দৌড়ে মোহনবাগানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এখন মুম্বই। ৯ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১৮। তবে মোহনবাগানের বিরতির সময় মুম্বইকে বেঙ্গালুরু এবং ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে হবে। ফলে এই সময়েই লিগের লড়াইয়ের সমীকরণ আরও পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গল কিছুটা চাপে রয়েছে। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে নাটকীয় ম্যাচে হার এড়ালেও জয় পায়নি তারা। ড্র করলেও দলের স্বস্তি নেই, কারণ সেই ম্যাচে বিতর্কিত লাল কার্ড দেখেছেন মিগুয়েল। ফলে পরের ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে না। ২৮ এপ্রিল ওডিশার বিরুদ্ধে ম্যাচেও ঘরের সুবিধা পাচ্ছে না লাল-হলুদ শিবির। ভোটের কারণে কলকাতায় ম্যাচ আয়োজন সম্ভব হয়নি। আবার ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ স্টেডিয়াম সংস্কারের কাজ চলায় ওডিশাতেও খেলা হচ্ছে না। তাই ম্যাচটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে গোয়ায়। এর ফলে ইস্টবেঙ্গলের সামনে টানা দুই অ্যাওয়ে ম্যাচের কঠিন চ্যালেঞ্জ। ওডিশার পর তাদের খেলতে হবে মুম্বই এফসির মাঠে। ফলে লিগের শেষদিকে তাদের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠল।
এদিকে গুয়াহাটির ম্যাচ নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। প্রবল বর্ষণে মাঠ প্রায় খেলার অযোগ্য হয়ে পড়লেও প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে ম্যাচ চালানো হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ম্যাচ কমিশনার ও রেফারির সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন করছেন অনেকেই। সমর্থকদের দাবি, এমন পরিস্থিতিতে বড় দুর্ঘটনা ঘটলে দায় নিত কে? ম্যাচ চলাকালীন নর্থইস্টের ফুটবলার অঙ্কিত পদ্মনাভনের কাঁধে গুরুতর চোট লাগে। জল জমে যাওয়ায় অ্যাম্বুল্যান্সও সহজে মাঠে পৌঁছতে পারেনি। স্ট্রেচারে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে। আবার মোহনবাগানের তারকা কামিংসকে সতীর্থের পিঠে চেপে টিম বাসে উঠতে দেখা যায়, যাতে তার জুতো ভিজে না যায়। সব বিতর্কের মাঝেও মোহনবাগান খুশি। কারণ ম্যাচ ভেস্তে গেলে পয়েন্ট ভাগাভাগি হতো। সেক্ষেত্রে শীর্ষস্থানও হাতছাড়া হতে পারত। তাই এই জয় তাদের জন্য দ্বিগুণ মূল্যবান।




















