কলকাতা: ফের কলকাতার হকি ডার্বিতে বাজিমাত মোহনবাগানের। কলকাতা প্রিমিয়ার হকি লিগের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতল সবুজ-মেরুন শিবির। গ্রুপ পর্বেও ইস্টবেঙ্গলকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছিল মোহনবাগান। ফলে ফাইনালের আগেই তাদের আত্মবিশ্বাস ছিল তুঙ্গে, আর মাঠে নেমে সেই আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন দেখা গেল। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের হকি স্টেডিয়ামে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় এই মহারণ।
মূলত রবিবার ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল আয়োজকদের। কিন্তু একই দিনে ফুটবলে মোহনবাগানের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকায় সূচিতে পরিবর্তন এনে একদিন এগিয়ে দেওয়া হয় ফাইনাল। দর্শকদের আগ্রহও ছিল চোখে পড়ার মতো। কলকাতার দুই প্রধানের লড়াই মানেই বাড়তি উত্তেজনা, আর হকিতেও তার ব্যতিক্রম হল না।
ফাইনালের আগে মোহনবাগান শিবিরে চোট-আঘাতের সমস্যা না থাকলেও ইস্টবেঙ্গলকে নামতে হয় কিছুটা দুর্বল দল নিয়ে। দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় দেবেন্দ্র বাল্মীকি ও আফফান ইউসুফকে চোটের কারণে পাওয়া যায়নি। সেই ধাক্কা ম্যাচের শুরু থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।খেলা শুরু হতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে মাঠ দখল করে নেয় মোহনবাগান। মাঝমাঠ থেকে দ্রুত বল বিলি, উইং দিয়ে ওঠানামা এবং ধারাবাহিক আক্রমণে চাপে পড়ে যায় ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ। প্রথমার্ধেই তার সুফল পায় বাগান। প্রথম গোলটি করেন অভ্রান সুদেব।
এরপর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রোহিত মোহিল। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় মোহনবাগান। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করে ইস্টবেঙ্গল। কিছুটা সংগঠিত ফুটওয়ার্ক ও আক্রমণাত্মক মনোভাবে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে তারা। সেই চেষ্টার ফল হিসেবে অতুল দীপ একটি গোল করে ব্যবধান কমান। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-১। তখন ম্যাচে উত্তেজনা বাড়তে থাকে, কারণ একটি গোলেই সমতা ফেরানো সম্ভব ছিল।
কিন্তু মোহনবাগান সেখানেই নিজেদের চ্যাম্পিয়নের মানসিকতা দেখায়। প্রতিপক্ষের চাপ সামলে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে তারা। সেই সুযোগ থেকেই তৃতীয় গোলটি করেন মহম্মদ রাহিল। তাঁর গোলের পরই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। এরপর দুই দলই আরও কিছু সুযোগ তৈরি করলেও গোলকিপারদের দুরন্ত সেভে আর স্কোর বদলায়নি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে আনন্দে ফেটে পড়ে মোহনবাগান শিবির। খেলোয়াড়দের স্টেনগান ভঙ্গিতে উদযাপন নজর কাড়ে সমর্থকদেরও। মাঠজুড়ে তখন শুধুই সবুজ-মেরুন উল্লাস।
পুরো প্রতিযোগিতায় মোহনবাগানের পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত ধারাবাহিক। আক্রমণভাগে যেমন ধার দেখা গেছে, তেমনই রক্ষণভাগেও ছিল দৃঢ়তা। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত পাসিং এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা তাদের অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। ফাইনালেও সেই ছন্দ বজায় রেখে যোগ্য দল হিসেবেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মোহনবাগান। কলকাতার হকি ডার্বিতে আবারও সবুজ-মেরুনের দাপট প্রমাণ করল, শুধু ফুটবল নয়—হকিতেও শহরের অন্যতম শক্তিশালী নাম তারা।




















