বাংলাদেশের হিন্দু-নির্যাতনকারীদের কড়া বার্তা সংঘ প্রধানের

মুম্বই: সংকটে থাকা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর বাড়তে থাকা (Mohan Bhagwat)হিংসা ও নিপীড়ন নিয়ে এবার সরব হলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর প্রধান মোহন ভাগবত। রবিবার মুম্বইয়ে আয়োজিত সংঘের ...

By Sandipa Sil

Published:

Follow Us
mohan-bhagwat-bangladesh-hindu-violence-rss-speech-mumbai

মুম্বই: সংকটে থাকা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর বাড়তে থাকা (Mohan Bhagwat)হিংসা ও নিপীড়ন নিয়ে এবার সরব হলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর প্রধান মোহন ভাগবত। রবিবার মুম্বইয়ে আয়োজিত সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে বক্তৃতায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় বার্তা দেন বাংলাদেশের হিন্দুরা যদি নিজেদের অধিকার রক্ষায় রুখে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, তবে বিশ্বের সমস্ত প্রান্তের হিন্দুরা তাঁদের পাশে দাঁড়াবে।

ওয়ারলির নেহরু সেন্টারে আয়োজিত দুই দিনের ‘ব্যাখ্যানমালা’-র দ্বিতীয় দিনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, “বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ হিন্দু রয়েছেন। যদি তাঁরা সেখানেই থেকে নিজেদের অধিকার রক্ষার লড়াই শুরু করেন, তাহলে সারা বিশ্বের হিন্দু সমাজ তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে।” সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে এই কর্মসূচির শিরোনাম ছিল ‘১০০ ইয়ার্স অব সংঘ জার্নি: নিউ হরাইজনস’।

   

আরও দেখুন: মসজিদের মধ্যেই জঘন্য কীর্তি! POCSO কেসে শ্রীঘরে সাব্বির

গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর, বিশেষ করে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হিংসা ও আক্রমণের ঘটনা বেড়েছে। ভারত-বিরোধী কট্টরপন্থী ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর পাশাপাশি নির্বাসিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি এবং ছাত্র আন্দোলনের জেরে ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর পর গোটা দেশে ব্যাপক অশান্তি ছড়ায়। এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ।

বাংলাদেশের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়েও মন্তব্য করেন RSS প্রধান। তাঁর দাবি, “জনসংখ্যার ভারসাম্য বদলে যাওয়ার পিছনে জন্মহার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ বড় কারণ। আগের সরকার এই বিষয়ে যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়নি। এখন সরকার ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে, এবং আমরা আশা করি তারা সফল হবে।”

ভারতের শক্তি ও অখণ্ডতা নিয়েও কড়া বার্তা দেন মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, “ভারতকে আর দুর্বল করা যাবে না। যারা ভারতকে ভাঙতে চাইবে, তারাই শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়বে।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিন RSS-এর অর্থসংস্থান নিয়েও নানা প্রশ্নের জবাব দেন সংঘ প্রধান। তিনি স্পষ্ট করে জানান, সংঘ কোনও কর্পোরেট বা প্রাতিষ্ঠানিক অনুদানের উপর নির্ভর করে না। “RSS-এর তহবিল আসে আমাদের স্বয়ংসেবকদের কাছ থেকে। আমরা কোথাও সফরে গেলে খাবার কেনার বদলে টিফিন চাই। হোটেলে না থেকে কর্মীদের বাড়িতেই থাকি,” বলেন তিনি।

জাতপাত ও নেতৃত্ব প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন মোহন ভাগবত। তাঁর কথায়, “RSS-এ নেতৃত্বের ক্ষেত্রে কোনও জাতিগত ভেদাভেদ নেই। SC-ST হওয়া অযোগ্যতা নয়, আবার ব্রাহ্মণ হওয়াও কোনও যোগ্যতা নয়। সংঘ সব জাতির জন্য কাজ করে, যদিও শুরুতে মূলত ব্রাহ্মণদের নিয়েই সংগঠন গড়ে উঠেছিল।” মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় সংঘের কাজকর্ম নিয়েও বক্তব্য রাখেন RSS প্রধান। তিনি জানান, সংঘ ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘাত এড়িয়ে চলে। “ওই সব এলাকায় কটূক্তি করা হলেও আমরা প্রতিক্রিয়া দিই না। প্রতিক্রিয়া না দিলে সংঘাত বাড়ে না,” বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগের দিন অর্থাৎ শনিবার বক্তৃতামালার প্রথম দিনে মোহন ভাগবত জানিয়েছিলেন, RSS কোনও গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের বিরোধী নয় এবং ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তাঁর কথায়, “সংঘের লক্ষ্য শুধু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯২৫ সালে সমাজে ঐক্যের অভাব লক্ষ্য করেই ডঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার RSS প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের পরিস্থিতি এবং সেই প্রেক্ষিতে RSS প্রধানের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sandipa Sil

আইনের ছাত্রী। শিক্ষানবীশ আইনজীবী। সাংবাদিকের সঙ্গে সংসারের সূত্রে সংবাদে আগ্রহ। কলকাতা24x7-এর মাধ্যমে পথ চলার শুরু।

Follow on Google