বনগাঁ: একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার হলেন টলিউড অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। শুধু মাঝপথে অনুষ্ঠান থামিয়ে দেওয়াই নয়, মিমির অভিযোগ, দর্শকদের সামনে মাইক্রোফোনে তাঁর সম্পর্কে চূড়ান্ত কুরুচিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিনেত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার বনগাঁ থানার পুলিশ অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে। (Mimi Chakraborty harassment case)
উদ্যেক্তাদের অভিযোগ কী?
রাত ১০টার বদলে পৌনে ১২টায় অনুষ্ঠানে আসেন মিমি চক্রবর্তী৷ রাত ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছিল পুলিশ৷ উদ্যোক্তাদের দাবি, দেরি করে আসায় রাত ১২টা ১০ মিনিটে অভিনেত্রীকে অনুষ্ঠান শেষ করতে বলা হয়৷ অনুষ্ঠানের আয়োজক বলেন, ‘‘মিমির আসার কথা ছিল সাড়ে ১০টায়৷ উনি পৌনে বারোটায় আসে৷ সেই প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে৷ বনগাঁ থানায় ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল৷ লিখিত ডকুমেন্টও আছে৷ ১২টা ২ মিনিটে স্টেজে উঠে আমি বলি আপনারা মিমি চক্রবর্তীকে দেখেছে৷ কিন্তু তাঁর অনুষ্ঠান এখানেই শেষ করা হল৷’’ তিনি আরও জানান, মিমির দেহরক্ষীদের তিনি বলেন অভিনেত্রীকে নামিয়ে আনতে৷ কারণ থানা থেকে কোনও সমস্যা হতে পারে৷
কী অভিযোগ মিমির?
মিমির অভিযোগ, তিনি যখন অনুষ্ঠান করছেন মাঝ পথেই তাঁকে নেমে যেতে বলা হয়৷ হেনস্থার অভিযোগে থানায় অভিযোগও করেন৷ এই ঘটনায় অভিযুক্ত তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই ঘটনার পরে, সোশ্যাল মিডিয়ায় মিমি লেখেন, ‘‘আমরা দেশ জুড়ে প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করছি, আমরা যখন স্বাধীনতা আর সাম্য নিয়ে কথা বলছি.. সেই সময়ে দাঁড়িয়ে একজন মহিলা শিল্পীর সম্মান সম্ভ্রমকে খুব সহজেই নত করা যায়। আমি এত বছর ধরে সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় নিজের কেরিয়ার, নিজের ইমেজ তৈরি করেছি। কিন্তু আজ চুপ করে থাকা মানে একজন শিল্পীর হেনস্থাকে মেনে নেওয়া। প্রতিবাদ না করা বা চুপ করে থাকা। আমাকে সদ্যই বনগাঁর নয়া গোপালগুঞ্জ যুবক সংঘ ক্লাবে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে অনুষ্ঠান করার সময়ে, মাঝপথে আমায় হঠাৎ করে এসে বলা হল মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে। আমাকে আগে থেকে এই বিষয়ে একেবারেই কিছু বলা হয়নি। হঠাৎ, একেবারে দর্শকদের সামনে আমাকে এসে বলা হয় মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে।’’




















