কলকাতা: সকাল থেকেই তৃণমূলের প্রার্থী দেবাশীষ কুমারের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে আয়কর দফতর। (Merlin Group)চলছে তল্লাশি। এবার নির্বাচনী আবহে বঙ্গ রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়িয়ে ইডি হানা মার্লিন গ্রূপের দফতরে। প্রায় ৬০০ কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগে এই অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গ্রুপের প্রমোটার ফিরহাদ হাকিম ঘনিষ্ট সুশীল মোহতা ও তাঁর ছেলে সাকেত মোহতা জাল নথিপত্র ব্যবহার করে জমির মালিকানা দাবি করেছেন এবং জালিয়াতির মাধ্যমে জমি দখল করেছেন।
এই জমিতে ‘মার্লিন নিয়াসা’ নামে বড় আকারের আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানা গেছে।ইডি সূত্রে খবর, অভিযানে সুশীল মোহতা ও সাকেত মোহতার বাসভবনসহ প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড, সল্টলেকসহ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। অফিস ও বাসস্থান থেকে বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস, নথিপত্র ও ফাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, অভিযুক্তরা একটি “মিথ্যা মালিকানার চেইন” তৈরি করেছেন জাল দলিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে।
আরও দেখুনঃ ভারত ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত; ড্রোন ও নেটওয়ার্কিং হলো ভবিষ্যতের ব্রহ্মাস্ত্র
এর মাধ্যমে আসল মালিকের জমি দখল করে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।এই মামলায় কলকাতা পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের একজন জানিয়েছেন, গত দু’মাস ধরে পুলিশ অভিযুক্তদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছে বলে তিনি মনে করেন। ইডি এখন অর্থ পাচারের (মানি লন্ডারিং) অভিযোগেও তদন্ত করছে। বাজেয়াপ্ত করা নথি থেকে রাজ্যের কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার সঙ্গে আর্থিক যোগাযোগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মার্লিন গ্রুপ কলকাতার একটি পরিচিত রিয়েল এস্টেট কোম্পানি। সুশীল মোহতা ও সাকেত মোহতা দীর্ঘদিন ধরে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ উঠেছে, আনন্দপুর এলাকায় ‘মার্লিন নিয়াসা’ প্রকল্পে জাল নথি ব্যবহার করে জমি দখল করা হয়েছে। আসল মালিকের দাবি অনুসারে, জমির মালিকানা তাঁদের, কিন্তু মোহতা পরিবার জাল দলিল দেখিয়ে নিজেদের মালিক বলে দাবি করেন। এরপর বড় আকারের আবাসন প্রকল্প চালু করে লাভবান হন।
কলকাতার রিয়েল এস্টেট মহলে এই খবর ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। অনেকে বলছেন, এ ধরনের জালিয়াতি যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে শুধু একটি কোম্পানি নয়, পুরো সেক্টরের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সাধারণ ক্রেতারা যাঁরা এই প্রকল্পে ফ্ল্যাট বুক করেছেন, তাঁদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকে জানতে চাইছেন, তাঁদের বিনিয়োগ এখন কী অবস্থায় আছে।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে মোহতা পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে অনেকে দাবি করেন। যদিও ফিরহাদ হাকিম এখনও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। বিরোধী দলগুলো বলছে, রাজ্যে জমি দখল ও অর্থ পাচারের ঘটনা বেড়েছে এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে এভাবেই তদন্ত করতে হবে।




















