Army Commanders Conference: ভারতীয় সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক, আর্মি কমান্ডার্স কনফারেন্স (এসি), চার দিনের আলোচনার পর ১৬ই এপ্রিল সমাপ্ত হয়েছে। ১৩ই এপ্রিল শুরু হওয়া এবং সেনাপ্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা এবং শীর্ষ সরকারি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ক্যাবিনেট সচিব, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ, প্রতিরক্ষা সচিব, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোর্ডের (এনএসএবি) চেয়ারম্যান এবং নৌবাহিনীর প্রধানও এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে উন্নততর সমন্বয় এবং যৌথ কৌশলের ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়াও, যুদ্ধের প্রকৃতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে বলে সকলেই একমত হন। এখন, প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি প্রযুক্তি-ভিত্তিক যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া অপরিহার্য। সম্মেলনে এও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু সামরিক বাহিনীই নয়, বরং সরকার, বেসামরিক সংস্থা এবং অন্যান্য সংস্থাকেও একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
২০২৬ সালকে নেটওয়ার্কিং ও ডেটা কেন্দ্রিকতার বছর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে
ভারতীয় সেনাবাহিনী ২০২৬ সালকে নেটওয়ার্কিং ও ডেটা কেন্দ্রিকতার বছর হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর অর্থ হলো, এই বছর সেনাবাহিনীর সম্পূর্ণ মনোযোগ থাকবে প্রযুক্তি ও ডেটার ব্যবহারের উপর। বৈঠকে সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করা, নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ, প্রশিক্ষণ এবং নতুন যুদ্ধ কৌশল নিয়েও আলোচনা করা হয়। এই বৈঠকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ আকর্ষণকারী দুটি প্রযুক্তিকে সামরিক বাহিনীর নতুন পরাশক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো সেনাবাহিনীকে প্রযুক্তিগতভাবে আরও সক্ষম করে তোলা, যা ভবিষ্যতের যুদ্ধে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং উন্নততর সমন্বয় সাধনে সাহায্য করবে।
আধুনিকীকরণ ও নতুন প্রযুক্তির উপর আলোকপাত
সম্মেলনে সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং নতুন প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল যুদ্ধক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষণ ও রণকৌশলে পরিবর্তন এবং নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক অভিযান।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের নিরাপত্তার জন্য একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী প্রয়োজন। এর জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সেনাবাহিনীর মধ্যে উন্নততর সমন্বয় এবং জাতীয় পর্যায়ে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। বৈঠকে প্রতিরক্ষা খাতে দেশীয় উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
ড্রোন ও ড্রোন-প্রতিরোধী ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব
সাম্প্রতিক অভিযানসমূহ, বিশেষ করে ‘অপারেশন সিঁদুর’ থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ড্রোন যুদ্ধের ওপর বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএএস) ব্যবহার এবং মনুষ্যবিহীন আকাশযান-প্রতিরোধী (সি-ইউএএস) সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। সম্মেলনে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। আজকের দিনে ভারতের নিরাপত্তার জন্য একটি শক্তিশালী সামরিক শক্তি অপরিহার্য। বর্তমান বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটকে সামনে রেখে প্রতিরক্ষা উৎপাদনে ভারতের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর বৈঠকে আলোকপাত করা হয়।
ভারত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে
সেনা কমান্ডারদের সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো প্রমাণ করে যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী যুদ্ধের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রকৃতির সাথে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছে। প্রযুক্তি, তথ্য এবং ড্রোন-ভিত্তিক যুদ্ধের দিকে অগ্রসর হওয়া ইঙ্গিত দেয় যে, ভারত ভবিষ্যতের যেকোনো নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে।




















