রুদ্ধশ্বাস অভিযান: সারান্ডায় ছিন্নভিন্ন মাওবাদী স্কোয়াড, নিকেশ মোস্ট ওয়ান্টেড অনিলদা

চাইবাসা: ২০২৬-এর মধ্যে মাও-দমনের যে ‘ডেডলাইন’ কেন্দ্র নির্দিষ্ট করেছিল, সেই পথে সবথেকে বড় সাফল্যটি এল বৃহস্পতিবার ভোরে। পশ্চিম সিংভুমের অভেদ্য সারান্ডা অরণ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সুপরিকল্পিত অভিযানে কার্যত তাসের ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
Jharkhand Encounter

চাইবাসা: ২০২৬-এর মধ্যে মাও-দমনের যে ‘ডেডলাইন’ কেন্দ্র নির্দিষ্ট করেছিল, সেই পথে সবথেকে বড় সাফল্যটি এল বৃহস্পতিবার ভোরে। পশ্চিম সিংভুমের অভেদ্য সারান্ডা অরণ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সুপরিকল্পিত অভিযানে কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল মাওবাদীদের শক্তিশালী একটি স্কোয়াড। খতম হয়েছে ঝাড়খণ্ডের ‘ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী নেতা পতিরাম মাঝি ওরফে অনিল দা। তার মাথার ওপর ১ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা ছিল।

অপারেশন ‘সারান্ডা’: ভোরের আলোয় রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম

পুলিশ সূত্রে খবর, ছোটনাগরা থানার কুম্ভডিহ গ্রাম সংলগ্ন গভীর অরণ্যে মাওবাদীদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের খবর ছিল গোয়েন্দাদের কাছে। সেই ইনপুট পেয়েই ভোর সাড়ে ৬টা নাগাদ এলাকা কর্ডন করে চাইবাসা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশেষ দল। নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে মাওবাদীরা অতর্কিতে অ্যামবুশ চালালে পাল্টা গর্জে ওঠে জওয়ানদের অত্যাধুনিক অস্ত্র। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই বিধ্বংসী এনকাউন্টারে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় মাওবাদীদের প্রতিরোধ।

   

আইজি (অপারেশনস) মাইকেল রাজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, “গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অপারেশন শুরু হয়েছিল। অনিল দা ওরফে তুফান সহ ৮-৯ জন ক্যাডার খতম হয়েছে। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে আমরা এখনই নিহতের চূড়ান্ত সংখ্যা প্রকাশ করছি না।” যদিও অসমর্থিত সূত্রের দাবি, নিহতের সংখ্যা ১৫ ছাড়াতে পারে।

কেন অনিল দা-র মৃত্যু মাওবাদীদের কাছে বড় ধাক্কা? Maoist leader killed

মাওবাদী সংগঠনের সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য অনিল দা ছিল সারান্ডা ও কোলহান অঞ্চলের অপারেশনাল মাস্টারমাইন্ড। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডকে ঢাল করে সে একের পর এক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। ঝাড়খণ্ডের তিন শীর্ষ মাওবাদী নেতার মধ্যে অনিল দা ছিল অন্যতম। তার পতনের পর এখন বাহিনীর র‍্যাডারে রয়েছে পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরা এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে মাও-আন্দোলনে যোগ দেওয়া অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ।

২০২৬-এর লক্ষ্যমাত্রা ও কৌশলগত জয়

ঝাড়খণ্ডের ডিজিপি তাদাসা মিশ্র এই অভিযানকে ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “এটি আমাদের জওয়ানদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সাফল্য। মাওবাদীদের মনোবল ভেঙে দিতে এই অপারেশন নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে।”

সারান্ডার ঘন অরণ্য ও রুক্ষ পাহাড়ি খাঁজ বরাবর এখনও কম্বিং অপারেশন চালাচ্ছে বাহিনী। এলাকাটি সম্পূর্ণ সিল করে দেওয়া হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, অনল দা-র মতো নেতার মৃত্যু মাওবাদীদের ইস্টার্ন জোনাল কমান্ডকে নেতৃত্বহীন করে দেবে, যা ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার নিরিখে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google