প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আর্সেনালের হারের পর সুযোগটা হাতছাড়া করল না ম্যানচেস্টার সিটি। রবিবার ঘরের মাঠে চেলসিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আবারও শীর্ষ লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানিয়ে দিল পেপ গুয়ার্দিওলার দল। ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখায় সিটি। মাঝমাঠে বল দখল রেখে একের পর এক আক্রমণ তুলে আনে তারা। সেই চাপের ফলও মেলে দ্রুত। নিকো ও’রাইলি প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর মার্ক গুয়েহি ব্যবধান বাড়ান।
শেষ দিকে জেরেমি ডোকু নিজের স্বভাবসিদ্ধ গতিতে প্রতিপক্ষ রক্ষণ ভেঙে তৃতীয় গোলটি করে জয়ের সিলমোহর দেন। এই জয়ে ৩১ ম্যাচে সিটির পয়েন্ট দাঁড়াল ৬৪। এক ম্যাচ বেশি খেলা আর্সেনালের সংগ্রহ ৭০। ফলে শিরোপার লড়াই এখন আরও জমে উঠেছে। শনিবার রাতে বড় জয় পেয়েছে লিভারপুলও। ফুলহ্যামের বিরুদ্ধে সহজ ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে জিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে আর্নে স্লটের দল। প্রথম গোলটি আসে ৩৬ মিনিটে তরুণ রিও এনগুমোহার পা থেকে। দুর্দান্ত ফিনিশে প্রতিভার ঝলক দেখান ১৭ বছরের এই ফুটবলার। মাত্র চার মিনিট পরেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মোহামেদ সালাহ্। তাঁর অভিজ্ঞতা আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ম্যাচ কার্যত সেখানেই শেষ হয়ে যায়।
এই জয় লিভারপুল শিবিরে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। গতবার চ্যাম্পিয়ন হলেও এ মরশুমে দলের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কোচ আর্নে স্লটকে ঘিরে সমর্থকদের অসন্তোষও বাড়ছিল। তাই ফুলহ্যামের বিরুদ্ধে এই জয় তাঁর জন্য অনেকটাই অক্সিজেনের মতো কাজ করল। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রিও এনগুমোহা। এত কম বয়সে বড় ম্যাচে গোল করে তিনি লিভারপুল সমর্থকদের নতুন আশার আলো দেখিয়েছেন। ইংল্যান্ড ফুটবলেও তাঁকে ভবিষ্যতের তারকা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্য ম্যাচে ক্রিস্ট্যাল প্যালেস ২-১ গোলে হারিয়েছে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে। লড়াই জমলেও শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্ট তুলে নেয় প্যালেস। ফলে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় জায়গা পাওয়ার লড়াইটাও আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শেষ পর্যায়ে এসে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। শিরোপা, ইউরোপিয়ান টিকিট এবং অবনমন— সব দিকেই লড়াই চলছে সমান তালে। আগামী কয়েক সপ্তাহেই নির্ধারিত হবে মরশুমের ভাগ্য।




















