ইসলামপুরের এক জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা এবং নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভামঞ্চ থেকে দাঁড়িয়ে তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর তল্লাশি প্রক্রিয়া এবং তার প্রয়োগ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে অসন্তোষ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সব নেতার গাড়িতে যদি তল্লাশি চালানো হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা সিআরপিএফের গাড়িতে কেন সেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না—এই প্রশ্নই তিনি তোলেন। তাঁর মতে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সকলের জন্য সমান নিয়ম থাকা উচিত। কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে আলাদা মানদণ্ড থাকলে তা গণতন্ত্রের পরিপন্থী হতে পারে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র বিরোধী দলের নেতাদের ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত নজরদারি চালানো হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিজেপির গাড়ি কেন তল্লাশি হবে না?” তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী আরও একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি জানান, দমদম বিমানবন্দরে তাঁর গাড়ির কাছেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশির জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। সেই সময় তিনি নিজেই তাঁদের তল্লাশি করতে উৎসাহ দেন। তিনি বলেন, “আমি বললাম, চেক করো, চেক করো। আমি চাই চেক করো।” তাঁর এই বক্তব্যে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে চলার পক্ষপাতী। তবে তাঁর মূল অভিযোগ হল, এই ধরনের তল্লাশি শুধু একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন শুধুমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের গাড়িতেই এই ধরনের কড়াকড়ি করা হচ্ছে? তাঁর মতে, এটি নির্বাচন পরিচালনার নিরপেক্ষতার উপর প্রশ্ন তোলে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত সকল রাজনৈতিক দলের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য করা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যদি সত্যিই স্বচ্ছ নির্বাচন করতে হয়, তাহলে কোনো পক্ষপাতিত্ব থাকা উচিত নয়। সবাইকে একই চোখে দেখা উচিত।




















