কলকাতা: বৃহস্পতিবার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রাতেই পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন রাজ্যপাল আরএন রবি। কিন্তু সমাজমাধ্যমে নিজের পরিচয় বদলাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখনও ফেসবুক বা এক্স হ্যান্ডলে নিজেকে ‘পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবেই উল্লেখ করছেন তিনি।(Mamata Banerjee Social Media Controversy)
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন জিতে নিয়েছে বিজেপি, আর প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি আসন। নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতিতে ইস্তফা দেওয়াই নিয়ম৷ কিন্তু তিনি তা করেননি। উল্টে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই ভোট লুটের অভিযোগ তুলে ইস্তফা দিতে নারাজ তিনি।
শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, গত ৭ মে পর্যন্ত রাজ্যের ‘কেয়ারটেকার’ বা তদারকি মুখ্যমন্ত্রী পদে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সংসদীয় গণতান্ত্রিক প্রথা বলছে, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার দিনই সাধারণত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীদের পদত্যাগ করা দস্তুর। রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২০১১ সালেও ঠিক এই একই ছবি দেখা গিয়েছিল। সেবার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হওয়ার আগেই, শুধুমাত্র ভোটের ট্রেন্ড বা প্রবণতা দেখেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। কিন্তু এবার সম্পূর্ণ উল্টো ছবি দেখল রাজ্যবাসী। ভোটে হেরে গেলেও পদত্যাগ করলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরেও নিজের পরিচয়ের আগে ‘প্রাক্তন’ শব্দটি জুড়তে নারাজ তিনি। আর এই নজিরবিহীন পদক্ষেপকে ঘিরেই বর্তমানে রাজ্য-রাজনীতিতে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।




















