কলকাতা: বঙ্গের নির্বাচনী আবহে নতুন করে চড়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ। (Mamata Banerjee)এবার মুখোমুখি সংঘাতে জড়িয়ে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী তথা কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজেশ কুমার। তৃণমূলনেত্রীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এবার গড়াল নির্বাচন কমিশনের দরজায়।
ঘটনার সূত্রপাত জগদ্দলে একটি নির্বাচনী সভা থেকে। সেখানে নাম না করে রাজেশ কুমারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বর্তমান বিজেপি প্রার্থী একসময় তাঁর কাছেই টিকিট চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা দেননি। শুধু তাই নয়, তিনি আরও অভিযোগ করেন যে ওই ব্যক্তি নানা আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁর কাছে সেই সংক্রান্ত তথ্যও রয়েছে। এই বক্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তুমুল চর্চা।
আরও দেখুনঃ ‘বাংলায় কাবা নয় কালীঘাটের সংস্কৃতি!’ ফের বিফোরক যোগী
এর পরদিনই পাল্টা আক্রমণে নামেন রাজেশ কুমার। তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ জানান যে মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য বিকৃত করে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন। এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বাংলায় একটা কথা আছে, চোরের মায়ের বড় গলা। উনি সেটাই করছেন। আমি কোনওদিন ওঁর কাছে টিকিট চাইনি, আর চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।” তাঁর দাবি, কর্মজীবনে তিনি সততার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং তাঁর পারফরম্যান্স রিপোর্ট ও ইন্টিগ্রিটি সার্টিফিকেট সবই প্রমাণ করে যে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই।
রাজেশ আরও বলেন, অবসর নেওয়ার পর অন্য অনেক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন পদে সুযোগ দেওয়া হলেও তাঁকে কিছুই দেওয়া হয়নি। তাই তিনি কখনও তৃণমূলের কাছে কোনও প্রত্যাশা রাখেননি। তাঁর কথায়, “যে দলে এত দুর্নীতির অভিযোগ, সেই দলের কাছে আমি কেন টিকিট চাইতে যাব?” পাশাপাশি তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানান, তারকা প্রচারকরা যদি এভাবে মিথ্যা অভিযোগ করেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ নেতারা। দলের মুখপাত্র Kunal Ghosh বলেন, “অভিযোগের কী আছে! সঠিক না হলে উনি বলছেন। নিশ্চয়ই কোনও ভিত্তি আছে বলেই মাননীয়া এই বিষয়টি তুলেছেন।” তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি সামনে আসার পর বিজেপি প্রার্থী অযথা নাটক করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আসলে নির্বাচনী লড়াইয়ের ক্রমবর্ধমান তীব্রতারই প্রতিফলন। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং পাল্টা অভিযোগ বাড়ছে। বিশেষ করে যেসব আসনে লড়াই কঠিন, সেখানে এই ধরনের বক্তব্য ভোটারদের প্রভাবিত করার একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও নজর রয়েছে সবার। এই অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। কারণ নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনও প্রার্থী বা নেতা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ছড়ান, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।




















