উত্তরবঙ্গঃ মাথাভাঙায় এক রাজনৈতিক সভা থেকে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভার মঞ্চ থেকে দেওয়া তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক নিয়ে একাধিক কড়া মন্তব্য উঠে আসে। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তাঁর আমলে রাজনৈতিক হিংসা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তিনি বলেন, “আমাদের সময়ে তো রাজনৈতিক হিংসা হয়নি।” তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, যখনই রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে ভোট পরিচালিত হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা কার্যত কমিশনের হাতে চলে যায়, তখনই বিশেষ কিছু জেলায়, বিশেষ করে কোচবিহারে অশান্তির ঘটনা সামনে আসে।
এই প্রসঙ্গে তিনি কোচবিহারের সাম্প্রতিক গোলমালের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে গেলে স্থানীয় বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা ও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দেন যে, স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে কাজ করতে দেওয়া হলে রাজনৈতিক হিংসা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজনৈতিক হিংসা বন্ধ করার জন্য তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে নির্দেশ দেবেন। তাঁর মতে, জনগণের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব। এই লক্ষ্য পূরণে প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে তিনি আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের বর্তমান কাঠামো নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আজকে আমার হাতে ল অ্যান্ড অর্ডার নেই।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান যে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু অংশ বর্তমানে কেন্দ্রীয় সংস্থার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যার ফলে রাজ্য সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে তিনি একইসঙ্গে রাজনৈতিক বার্তাও দেন। তিনি বলেন, “আপনারা ভাবছেন আগামিকাল কিন্তু আমার হাতেই থাকবে।” এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যতে রাজ্যের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং রাজনৈতিকভাবে আত্মবিশ্বাসও প্রকাশ করেছেন।




















