
কলকাতা: ফের শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ করে বিতর্ক উস্কালেন মমতা বন্দোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বিকেলের দিকে গণনাকেন্দ্র শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল থেকে বেরোনোর সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসতেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।
নিজেই সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, “আমাকে ধাক্কা দিয়েছে, মেরেছে।” তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে মুহূর্তের মধ্যেই রাজনৈতিক আবহ গরম হয়ে ওঠে। যদিও এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবুও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গণনাকেন্দ্রের বাইরে সেই সময় পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এবং বিশৃঙ্খল। এই ঘটনায় বিজেপি পাল্টা অভিযোগ করেছে মমতা ফের ভিকটিম কার্ড খেলার চেষ্টা করছেন। বিজেপি মনে করিয়ে দিয়েছে ২০২১ র নির্বাচনের ফলাফলের দিনও শুভেন্দুর কাছে হেরে যাওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেন তাকে শারীরিক হেনস্থা করা হয় এবং তার পা ভেঙে যায়।
আরও দেখুনঃ গেরুয়া ঝড়ে চাপে হাবরার তিনবারের বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয়, উঠল ‘চাল চোর’ স্লোগান
ভবানীপুর কেন্দ্র এমনিতেই সারা দিন ধরেই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। দুপুর ২টো নাগাদ গণনাকেন্দ্রের ভিতরে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ এবং প্রার্থীদের পরিচয়পত্র সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে তীব্র বচসা শুরু হয়। বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে নিয়মভঙ্গের অভিযোগ তোলে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে কিছু সময়ের জন্য ভোট গণনা স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় নির্বাচন কমিশন।
এই অচলাবস্থা প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। পরে কমিশনের হস্তক্ষেপে এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। মোবাইল ফোন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করার পর পুনরায় গণনা শুরুর প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে জানা যায়।
এই ঘটনার মধ্যেই বিকেলের দিকে মুখ্যমন্ত্রী যখন গণনাকেন্দ্র থেকে বেরোচ্ছিলেন, তখনই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অভিযোগ, ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় এবং সেই সময়ই তিনি শারীরিকভাবে হেনস্থার শিকার হন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, ঘটনার সময় পর্যন্ত যে ভোট গণনার ট্রেন্ড সামনে এসেছিল, তাতে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ রাউন্ড গণনা শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫,৩৪৯ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। যদিও পরবর্তী রাউন্ডগুলিতে ব্যবধান আরও কমতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলছিল।













