নয়াদিল্লি: লোকসভায় আবারও তুমুল হইচই। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলেন,(Nishikant Dubey) এবার টেনে আনলেন জওহরলাল নেহরু ও লেডি এডউইনা মাউন্টব্যাটেনের সম্পর্কের প্রসঙ্গ। রাহুল গান্ধী প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নরবণের অপ্রকাশিত বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘কম্প্রোমাইজড’ বলে আক্রমণ করছিলেন।
তখন দুবে পালটা আক্রমণে নেমে বললেন, “অপ্রকাশিত বই নিয়ে আলোচনা চলছে? তাহলে আমি প্রকাশিত বইয়ের কথা বলি, যেগুলো গান্ধী পরিবারের ‘গদ্দারি, মক্কারি, ভ্রষ্টাচার আর আইয়াশি’র কথা বলে।” তিনি লোকসভায় একাধিক বই দেখিয়ে বললেন, এগুলোতে নেহরু-এডউইনার সম্পর্কের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে ৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনার সময়। ঠিক এইভাবেই নিশিকান্ত দুবে রাহুল গান্ধীকে হুমকি দেন।
আরও দেখুন: সমুদ্রের বালি চুরি, ৩টি ডাম্পারসহ গ্রেফতার ৬
রাহুল গান্ধী নরবণের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘ফোর স্টার্স অফ ডেসটিনি’ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেন যে গালওয়ান-লাদাখ সংঘর্ষে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনিচ্ছা ও দুর্বলতা ছিল। তিনি বলেন, “এই বইয়ে সত্য লেখা আছে, যা সরকার চাপা দিতে চাইছে।” কিন্তু স্পিকার ওম বিরলা নিয়মের অজুহাতে (রুল ৩৪৯) তাঁকে থামিয়ে দেন, কারণ বইটি প্রকাশিত নয়। এতে কংগ্রেস সাংসদরা ক্ষুব্ধ হন, হইচই শুরু হয়, এমনকি আটজন বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়।
তারপর দুবে উঠে দাঁড়ান। তিনি বলেন, “রাহুলজি অপ্রকাশিত বই নিয়ে কথা বলতে চান, তাহলে আমি প্রকাশিত বই নিয়ে আসি।” তিনি ‘এডউইনা অ্যান্ড নেহরু’ বইটির নাম নেন, যাতে স্বাধীনতা ও দেশভাগের সময় নেহরুর ‘আইয়াশি’ চলছিল বলে বর্ণনা রয়েছে। দুবে বলেন, “দেশ ভাগ হচ্ছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ মরছে, আর নেহরুজি তখন রোমান্সে মগ্ন ছিলেন এটা ডকুমেন্টেড ইতিহাস।” তিনি আরও বইয়ের নাম নেন এম ও মাথাইয়ের বই (নেহরুর সেক্রেটারি), যাতে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে।
দুবে বলেন, “এগুলো সব প্রকাশিত বই, কোনওটাই নিষিদ্ধ নয়। গান্ধী পরিবারের ‘আইয়াশি, মক্কারি আর ভ্রষ্টাচার’র কথা বলে।”এই কথায় লোকসভায় হট্টগোল শুরু হয়। কংগ্রেস সাংসদরা চিৎকার করে উঠেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও প্রতিক্রিয়া জানান। স্পিকার বারবার হস্তক্ষেপ করেন, কিন্তু দুবে থামেন না। তিনি বলেন, “নেহরু আপনাদের দাদু হতে পারেন, কিন্তু তিনি দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
আমার প্রশ্ন করার অধিকার আছে।” শেষ পর্যন্ত লোকসভা মুলতবি ঘোষণা করা হয় বিকেল ৫টা পর্যন্ত।এই ঘটনা গান্ধী পরিবারের জন্য ‘নাইটমেয়ার’ ফিরিয়ে এনেছে বলে বিজেপি মহল বলছে। দুবে, যিনি আগেও রাহুলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন, এবার নেহরু-এডউইনা প্রসঙ্গ তুলে পুরনো বিতর্ককে জাগিয়ে তুললেন।
কংগ্রেস বলছে, এটা ইতিহাসের বিকৃতি, সরকারের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড রাহুলকে অপ্রকাশিত বইয়ের উদ্ধৃতি দিতে দেওয়া হয় না, কিন্তু দুবেকে প্রকাশিত বইয়ের কথা বলতে দেওয়া হয়। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন, “একটা বইয়ের বিরুদ্ধে আরেকটা বই এটা সত্যের লড়াই নয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।”




















