
বিশ্বজুড়ে মানুষের ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে নানা সময়ে সমীক্ষা হয়। সেই তালিকায় সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যৌনতৃপ্তি বা সেক্সুয়াল স্যাটিসফ্যাকশনের (Relationship, satisfaction) নিরিখে বিশ্বে শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে ভারত। আশ্চর্যের বিষয়, এই তালিকায় ভারতের আশেপাশে নেই কোনও প্রতিবেশী দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য কোনও দেশ যেমন পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল বা শ্রীলঙ্কা—কেউই এই প্রথম পাঁচে নেই।
এই তথ্য উঠে এসেছে বিখ্যাত কনডম ও সেক্সুয়াল ওয়েলনেস ব্র্যান্ড Durex-এর ২০২৪ সালের গ্লোবাল সেক্স সার্ভে থেকে। সমীক্ষায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের মধ্যে যৌনজীবন নিয়ে সন্তুষ্টি, শারীরিক ও মানসিক তৃপ্তি, সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা এবং যৌনস্বাস্থ্যের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, নরওয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে, যেখানে প্রায় ৯১ শতাংশ মানুষ নিজেদের যৌনজীবন নিয়ে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন। বিপরীতে, জাপানের অবস্থান তালিকার একেবারে নীচের দিকে—মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষই সেখানে যৌনতৃপ্তির কথা স্বীকার করেছেন।
এই তালিকায় ভারত উঠে এসেছে শীর্ষ পাঁচে, যেখানে প্রায় ৭৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী শারীরিক ও মানসিক যৌনতৃপ্তির কথা জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের মতো জনবহুল ও সামাজিকভাবে রক্ষণশীল বলে পরিচিত দেশের ক্ষেত্রে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। অনেকের ধারণা ছিল, সামাজিক লজ্জা, ট্যাবু এবং যৌনতা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনার অভাব ভারতের স্কোর কমিয়ে দেবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ছবিটা ঠিক উল্টো।
সমীক্ষা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভারতের উচ্চ স্কোরের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, তরুণ জনসংখ্যার আধিক্য। দ্বিতীয়ত, গত এক দশকে যৌনশিক্ষা ও সেক্সুয়াল ওয়েলনেস পণ্য সম্পর্কে সচেতনতা বেড়েছে। শহরাঞ্চলের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও ধীরে ধীরে এই বিষয়গুলি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃতীয়ত, নিয়মিত যৌনসম্পর্ক এবং সঙ্গীর সঙ্গে আবেগগত সংযোগকে ভারতীয় অংশগ্রহণকারীরা বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
অন্যদিকে, উন্নত দেশগুলির অবস্থান তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে। উদাহরণ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলা যায়। বিভিন্ন তথ্যভাণ্ডার ও গবেষণা সংস্থা Statista-র রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকায় যৌনতৃপ্তির হার প্রায় ৪৮ শতাংশের আশেপাশে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত কাজের চাপ, স্ট্রেস, ঘুমের অভাব এবং কর্মজীবন-ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্যহীনতা এর বড় কারণ।
এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি যেমন জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া বা চিন—তালিকার নীচের দিকেই রয়েছে। সমাজে অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা, কাজের চাপ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং মানসিক চাপ সেখানে যৌনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মত সমাজবিজ্ঞানীদের। এর বিপরীতে ব্রাজিল ও ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলি তুলনামূলকভাবে ভাল ফল করেছে।
সমীক্ষা ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। কেউ কেউ বলছেন, ভাল ঘুম, সুষম খাদ্য, মানসিক চাপ কমানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন যৌনতৃপ্তির জন্য অত্যন্ত জরুরি। আবার অনেকে মনে করছেন, শুধুমাত্র যৌনসম্পর্কের ঘনত্ব নয়, সম্পর্কের গুণগত মানই আসল চাবিকাঠি।
Top 50 Countries Highest Sexual Satisfaction:
1. 🇳🇴 Norway – 91%
2. 🇵🇹 Portugal – 83%
3. 🇧🇷 Brazil – 82%
4. 🇨🇳 China – 79%
5. 🇮🇳 India – 76%
6. 🇮🇩 Indonesia – 75%
7. 🇹🇭 Thailand – 75%
8. 🇫🇷 France – 74%
9. 🇲🇾 Malaysia – 71%
10. 🇳🇱 Netherlands – 70%
11. 🇵🇭 Philippines –… pic.twitter.com/KOOubbwhcX— The Index Insider (@TheIndexInsider) December 20, 2025
সব মিলিয়ে, বিশ্বে যৌনতৃপ্তির শীর্ষ পাঁচে ভারতের স্থান পাওয়া নিঃসন্দেহে একটি চমকপ্রদ ঘটনা। এটি একদিকে যেমন ভারতীয় সমাজের পরিবর্তিত মানসিকতার ইঙ্গিত দেয়, তেমনই অন্যদিকে সামগ্রিক সুস্থতা ও ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বকেও সামনে আনে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এই ধরনের সমীক্ষা একটি সামগ্রিক ছবি দিলেও, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতা দেশভেদে, ব্যক্তি ভেদে আলাদা হতে পারে। তবুও, আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই স্বীকৃতি ভারতের জন্য নিঃসন্দেহে আলোচনার বিষয়।










