প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা তোলার নয়া নিয়ম কেন্দ্রের

দেশের কোটি কোটি চাকরিজীবীর জন্য বড় স্বস্তির খবর। প্রভিডেন্ট ফান্ড (EPF) তোলার নিয়মে আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। কর্মসংস্থান হারালে বা আর্থিক সঙ্কটে পড়লে…

How Much EPF Savings Can You Accumulate in 20 Years

দেশের কোটি কোটি চাকরিজীবীর জন্য বড় স্বস্তির খবর। প্রভিডেন্ট ফান্ড (EPF) তোলার নিয়মে আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। কর্মসংস্থান হারালে বা আর্থিক সঙ্কটে পড়লে যাতে কর্মীরা দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে নিজেদের সঞ্চিত অর্থ ব্যবহার করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই নতুন ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের অধীনে থাকা Employees’ Provident Fund Organisation (ইপিএফও)-র মাধ্যমে এই সংস্কার কার্যকর হবে বলে জানা গেছে।

Advertisements

কেন্দ্রীয় শ্রম প্রতিমন্ত্রী Shripad Naik সম্প্রতি জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে এমন একটি ব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে বেকার হয়ে পড়া কর্মীরা সরাসরি এটিএম বা ইউপিআই-এর মাধ্যমে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা তুলতে পারবেন। এই ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত পিএফ ব্যালান্স তোলা যাবে, যা বর্তমান নিয়মের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে প্রক্রিয়াটি হবে অনেক দ্রুত ও সহজ।

   

বর্তমানে নিয়ম অনুযায়ী, কোনও কর্মী চাকরি হারানোর এক মাস পরে তাঁর পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে ৭৫ শতাংশ টাকা তুলতে পারেন। বাকি ২৫ শতাংশ তোলা যায় দু’মাস পরে। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় অনলাইন আবেদন, যাচাই-বাছাই এবং অনুমোদনের জন্য অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। নতুন নিয়মে সেই দীর্ঘসূত্রিতা কাটিয়ে উঠতেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক টাকা তোলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

শ্রম মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ইপিএফও-র সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৭ কোটিরও বেশি গ্রাহক সরাসরি উপকৃত হবেন। Ministry of Labour and Employment-এর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সংগঠিত ক্ষেত্রের একটি বড় অংশের কর্মীই ইপিএফও-র আওতায় রয়েছেন। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, চাকরি হারানো বা জরুরি চিকিৎসা খরচ—এই সব পরিস্থিতিতে দ্রুত নগদ অর্থ পাওয়া কর্মীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন ব্যবস্থায় কীভাবে টাকা তোলা যাবে? সূত্রের খবর, ইপিএফও একটি বিশেষ ডেবিট কার্ড বা ভার্চুয়াল পেমেন্ট সিস্টেম চালু করতে পারে, যা সরাসরি সদস্যের পিএফ অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর ফলে এটিএম থেকে টাকা তোলা বা ইউপিআই-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। আধার-লিঙ্কড যাচাইয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভারতের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইতিমধ্যেই ইউপিআই এবং ডিজিটাল লেনদেনে বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে ভারত। পিএফ তোলার ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার হলে স্বচ্ছতা যেমন বাড়বে, তেমনই দুর্নীতির সম্ভাবনাও কমবে। পাশাপাশি, মধ্যস্বত্বভোগীর প্রয়োজন না থাকায় সাধারণ কর্মীদের ভোগান্তিও কমবে।

তবে কিছু মহল থেকে আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, খুব সহজে পিএফ তোলার সুযোগ থাকলে অনেকেই অবসরকালীন সঞ্চয় আগেভাগেই খরচ করে ফেলতে পারেন। ফলে ভবিষ্যতে অবসর জীবনে আর্থিক সুরক্ষা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। যদিও সরকারের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই সুবিধা মূলত বেকারত্ব বা জরুরি পরিস্থিতির জন্যই প্রযোজ্য হবে এবং সম্পূর্ণ পিএফ একবারে তোলার সুযোগ দেওয়া হবে না।

সব মিলিয়ে, প্রভিডেন্ট ফান্ড তোলার এই নয়া নিয়ম দেশের শ্রমজীবী মানুষের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে। চাকরি হারালে বা কঠিন আর্থিক পরিস্থিতিতে পড়লে এখন আর দীর্ঘ অপেক্ষা নয়—ডিজিটাল মাধ্যমেই মিলবে নিজের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের টাকা। আগামী মাসগুলিতে এই ব্যবস্থার রূপরেখা ও প্রযুক্তিগত দিকগুলি চূড়ান্ত হলে, কর্মীদের মধ্যে আরও স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Advertisements