বাংলাদেশে ঢুকে জিহাদি নেটওয়ার্ক তৈরির ঘোষণা লস্করের কাসুরির

বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সামরিক সম্পর্ককে স্বাগত (Lashkar)জানিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন লস্কর ই তৈবার মাথা সাইফুল্লাহ কাসুরি। এই সাইফুল্লাহ কাশ্মীরের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার মাস্টার মাইন্ড হিসেবেও পরিচিত। রাষ্ট্রসংঘ-নিষিদ্ধ এই জঙ্গি গোষ্ঠীর ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
lashkar-saifullah-kasuri-bangladesh-jihad

বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সামরিক সম্পর্ককে স্বাগত (Lashkar)জানিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন লস্কর ই তৈবার মাথা সাইফুল্লাহ কাসুরি। এই সাইফুল্লাহ কাশ্মীরের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার মাস্টার মাইন্ড হিসেবেও পরিচিত। রাষ্ট্রসংঘ-নিষিদ্ধ এই জঙ্গি গোষ্ঠীর উপ-প্রধান সাইফুল্লাহ কাসুরি এই ঘনিষ্ঠতাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

সূত্র অনুযায়ী, সাইফুল্লাহ কাসুরি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যের আনুষ্ঠানিক শুরুকে ‘প্রশংসনীয়’ এবং ‘অত্যন্ত সমাদৃত’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি এই সম্পর্ককে ‘মুসলিম বিশ্বের জন্য ইতিবাচক পুনর্গঠন’ হিসেবে দেখছেন। কাসুরি, যিনি পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচিত এবং রাষ্ট্র সংঘের তালিকাভুক্ত জঙ্গি, এই বিবৃতিতে ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।

   

স্বামীজির বাড়ির সামনে অভিষেকের পোস্টার! সুকান্ত যা বললেন…

গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, এই ধরনের সমর্থন লস্কর-ই-তৈয়বার কৌশলগত স্বার্থের ইঙ্গিত দেয় যেখানে পাকিস্তান-বাংলাদেশের নতুন সম্পর্ককে তারা নতুন জিহাদি নেটওয়ার্ক বিস্তারের সুযোগ হিসেবে দেখছে।এই ঘটনা ঘটেছে যখন শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক দ্রুত উন্নত হচ্ছে। দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সামরিক সহযোগিতা বাড়ছে।

পাকিস্তানের তরফে এই সম্পর্ককে ‘ভাইয়ের মতো’ বলে বর্ণনা করা হচ্ছে, যা ১৯৭১-এর যুদ্ধের পর দীর্ঘদিনের দূরত্ব কমানোর প্রচেষ্টা। কিন্তু লস্কর-ই-তৈয়বার এই স্বাগত জানানোকে অনেকে ‘লাল সংকেত’ হিসেবে দেখছেন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এতে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর জন্য নতুন রুট, নতুন আশ্রয় এবং ভারতের পূর্বাঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

লস্কর-ই-তৈয়বা দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলা সহ ভারতে একাধিক বড় সন্ত্রাসবাদী ঘটনার পিছনে এই গোষ্ঠীর হাত রয়েছে। কাসুরির মতো নেতারা প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগের কথাও স্বীকার করেছেন। এখন বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতায় তারা খুশি হওয়ার কারণ স্পষ্ট এতে ১৯৭১-এর প্রতিশোধের সুযোগ এবং ভারতের বিরুদ্ধে নতুন ফ্রন্ট খোলার সম্ভাবনা।

ভারতের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গি নেতাদের প্রকাশ্যে বিবৃতি দেওয়া এবং সরকারের নীরবতা পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী নীতির প্রমাণ। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এই সম্পর্কের উন্নয়ন যদি জঙ্গি গোষ্ঠীদের উৎসাহিত করে, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা আরও জটিল হয়ে উঠবে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google