‘ভারতকে ভালোবাসি, কিন্ত বন্দে মাতরম নয়!’ মত কলকাতা খিলাফত কমিটির

vande-mataram-controversy-kolkata-khilafat-committee-opposition

কলকাতা: ‘বন্দে মাতরম’-কে ঘিরে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল। (Vande Mataram)পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসাগুলিতে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়াকে বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কলকাতা খিলাফত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আশরাফ আলি কাসমি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “মুসলিমদের উপর জোর করে বন্দে মাতরম গাওয়ানো ভুল। আমরা ভারতকে ভালোবাসি, কিন্তু দেশকে পূজা করি না। মুসলমানরা শুধুমাত্র আল্লাহরই উপাসনা করেন।”

- Advertisement -

   

এই বক্তব্য ঘিরে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।সম্প্রতি রাজ্য সরকারের একটি নির্দেশিকায় সব মাদ্রাসায় জাতীয় সংগীত ও জাতীয় গান গাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপকে অনেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগ্রত করার প্রয়াস হিসেবে দেখলেও, একাংশের কাছে এটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বলে মনে হয়েছে। ঈদ উদযাপন উপলক্ষে রেড রোডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কাসমি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

আরও দেখুনঃ ২০২১ ভোটপরবর্তী হিংসায় উসকানি! পরমব্রত বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ করলেন হাইকোর্টের আইনজীবী

তিনি বলেন, “দেশপ্রেম প্রমাণের জন্য কোনো গান বাধ্যতামূলক করা উচিত নয়। ভারত আমাদের মাতৃভূমি, আমরা এর জন্য লড়াই করেছি, কিন্তু আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে একমাত্র আল্লাহই উপাস্য।”‘বন্দে মাতরম’ গানটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাস থেকে নেওয়া। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় এটি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রেরণা হয়ে উঠেছিল। খিলাফত আন্দোলনের সময়ও অনেক মুসলিম নেতা এই গান গেয়েছিলেন বলে ঐতিহাসিক তথ্য রয়েছে।

কিন্তু পরবর্তীকালে গানের কিছু পংক্তিতে মাতৃভূমিকে দেবী হিসেবে কল্পনা করায় কিছু মুসলিম ধর্মীয় নেতা এতে আপত্তি জানান। ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি গানের প্রথম দুটি স্তবককে জাতীয় গান হিসেবে গ্রহণ করে, পুর গান নয়। সেই থেকে এই বিতর্ক চলে আসছে।এই ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়া তীব্র। বিজেপি নেতারা বলছেন, “জাতীয় গানকে অস্বীকার করা মানে দেশের প্রতি আনুগত্য না থাকা।”

তাঁদের মতে, এটি তোষণের রাজনীতির ফল। অন্যদিকে, কিছু বাম ও কংগ্রেস নেতা মনে করেন, ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষা করে সকলকে একসঙ্গে নিয়ে চলাই সঠিক পথ। সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেক হিন্দু বলছেন, “একটি জাতীয় গান গাওয়াতে এত আপত্তি কেন? এটি তো জোর করে ধর্মান্তরকরণ নয়।” আবার কিছু মুসলিম যুবক জানান, “দেশকে ভালোবাসি, কিন্তু বিশ্বাসের সঙ্গে আপস করব না।”

এই বিতর্কের মূলে রয়েছে ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক অধিকার ও জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞা। সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ে বলা হয়েছে, জাতীয় সংগীত বা গান গাওয়া বাধ্যতামূলক নয়, তবে অসম্মান করা যাবে না। স্বাধীনতার পর থেকে এই ইস্যু বারবার উঠে এসেছে। কখনো স্কুলে, কখনো সরকারি অনুষ্ঠানে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু একটি গান নয়, বরং ভারতের বহুত্ববাদী সমাজের চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরে।