জামিন পেলেন DA এর দাবিতে রাস্তায় নেমে গ্রেফতার হওয়া ৪৮ জন সরকারি কর্মচারী

10

বকেয়া DA এর দাবিতে বিধানসভা অভিযানের লক্ষ্যে রাস্তায় নেমে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হতে হয়েছিল ৪৮ জন সরকারি কর্মচারীসহ পেনশনভোগীদের। তাদের মিছিল শান্তিপূর্ণ ছিল মিছিলের ওপর জুলুম করেছে পুলিশ। ‘আন্দোলনকারীদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার কি প্রয়োজন রয়েছে?’ এমনই প্রশ্ন তুলেছিলেন আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তার পক্ষেই রায় দিলো আদালত। অবশেষে ৫০০ টাকার বন্ডে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন গতকাল গ্রেফতার হওয়া ৪৮ জন সরকারি কর্মী।

শর্তসাপেক্ষে জামিন পাওয়ার পর আবারো সুর চরিয়েছেন সরকারি কর্মীরা। তাঁদের দাবি না মানা হলে আগামী দিনে আরো বড় আন্দোলনের মুখে পড়তে হবে রাজ্য সরকারকে। আরো বড় আন্দোলনের পথে হাঁটবেন সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে পেনশনভোগীরা। দরকার পড়লে তারা নবান্ন অভিযানের মত সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও হুশিয়ারি জানিয়েছেন তাঁরা।

প্রসঙ্গত, বুধবার বকেয়া ডিএ এর দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন রাজ্য সরকারি কর্মচারী থেকে শুরু করে পেনশনভোগীরা। ন্যায্য ডিএ এর দাবিতে এবং বকেয়া যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মিটিয়ে দেওয়ার দাবি-সহ দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ, অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ী পদে নিযুক্ত করার মতো একাধিক দাবি নিয়ে একত্রিত হয়েছিলেন বাম সংগঠন ও বেশ কিছু শ্রমিক সংগঠন। শান্তিপূর্ণভাবেই মিছিল করছিলেন তারা। আচমকাই ব্যারিকেড দিয়ে এবং পুলিশ কর্মী মোতায়েন করে তাদের রাস্তা আটকে দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে বচসা। তারপর শুরু হয়ে যা হাতাহাতি এমনকি পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জ থেকে শুরু করে মার ধরে অভিযোগে উঠেছে। এমনকি আন্দোলনকারীদের তরফ থেকে শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপর পুলিশের অতি সক্রিয়তা ও এমনকি আন্দোলনকারীদের ঘুষি মারার অভিযোগ উঠেছে।

গোটা ঘটনা ঘিরে কাল রীতিমতো উত্তাল হয়ে উঠেছিল ধর্মতলা চত্বর। আন্দোলনকারীদের প্রথমে রানি রাসমনি রোডে আটকানো হয়। বিক্ষোভ দেখাতে ত্রিস্তরীয় ব্যারিকেড পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে। কিন্তু ন্যায্য দাবি নিয়ে রাস্তায় নামা সংগঠনগুলির শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের অতি সক্রিয়তার জন্য ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল সামনের দিকে এগিয়ে যায়। বিক্ষোভের জেরে বিধানসভা ২ নম্বর গেটের সামনে শান্তিপূর্ণ মিছিল রূপ নিয়েছিল রণক্ষেত্রের।

 আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রথমে পুলিশের বচসা শুরু এবং তারপরেই তা রূপ নেয় খণ্ডযুদ্ধের। এই মিছিলে উপস্থিত সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা, যারা আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন তাদের মধ্যে ৪৮ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যাদের মধ্যে ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের কয়েকজন কর্মীও। আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার করার ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে জানিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া, মহিলা ও পুলিশ কর্মীদের কটুক্তি ও হিংসা ছাড়ানোর মতো ৯ টি জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল ওই ৪৮ জনের বিরুদ্ধে। আজ গ্রেফতার হওয়া ওই সরকারি কর্মীদের আদালতের তোলা হয়। সেই মামলার শুনানিতে অবশেষে জামিন পেয়ে যান তারা।

(সব খবর, সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে পান। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram এবং Facebook পেজ)