সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলায় চাঞ্চল্যকর মন্তব্য তুষার মেহতার

আইপ্যাক মামলাকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) জোরদার আইনি লড়াই নতুন মাত্রা পেল। বুধবার এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পি কে মিশ্র।…

Mamata ED legal fight

আইপ্যাক মামলাকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) জোরদার আইনি লড়াই নতুন মাত্রা পেল। বুধবার এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পি কে মিশ্র। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনও মুখ্যমন্ত্রী যদি সরাসরি কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্ত প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেন, তবে তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। এই মন্তব্যের পর থেকেই মামলাটি জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।(Supreme Court) বৃহস্পতিবার সেই মামলাতেই সওয়াল করতে গিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্যে মূলত উঠে আসে, কীভাবে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে কেন্দ্রের দাবি। তিনি আদালতে যুক্তি দেন, তদন্তকারী সংস্থার স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকার রয়েছে এবং সেই কাজে বাধা সৃষ্টি হলে তা আইনের পরিপন্থী।

তুষার মেহতা আদালতে প্রশ্ন তোলেন, কেন অভিযুক্তদের রক্ষা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হল। তাঁর দাবি, তদন্ত চলাকালীন কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি বা হস্তক্ষেপ তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তিনি বলেন, “আইনের শাসন বজায় রাখতে হলে তদন্ত প্রক্রিয়াকে স্বাধীনভাবে চলতে দিতে হবে।” এই মামলার সূত্রপাত আইপ্যাকের অফিসে ইডি-র তল্লাশিকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা যায়, তিনি একটি সবুজ ফাইল হাতে নিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে আসেন। এই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত। কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে অভিযোগ, এই ঘটনাটি তদন্তে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়।

   

অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি, ইডি-র এই তল্লাশি এবং পদক্ষেপের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সংস্থা তার এক্তিয়ার ছাড়িয়ে কাজ করছে এবং সেই কারণেই এই বিষয়টি আদালতের সামনে আনা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে এই মামলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র আইনি লড়াই চলছে। একদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থা ও সলিসিটর জেনারেলের যুক্তি, অন্যদিকে রাজ্যের পক্ষের পাল্টা বক্তব্য—সব মিলিয়ে মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিচারপতি পি কে মিশ্রের পর্যবেক্ষণ এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।