নয়া দিল্লি: ভোটার তালিকা ফ্রিজ হওয়ার পরও ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক নতুন ভোটারের নাম যুক্ত করা হচ্ছে এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভোটার তালিকা একবার স্থগিত বা ‘ফ্রিজ’ হয়ে যাওয়ার পর নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করার কোনও সুযোগ থাকার কথা নয়। কিন্তু ফর্ম ৬ ব্যবহার করে রাজ্যে ধারাবাহিকভাবে নতুন নাম যুক্ত করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই অভিযোগ সামনে এনে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতির এজলাসে আবেদন জানান বিশিষ্ট আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। তাঁর বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। ভোটার তালিকা সংশোধন ও নতুন ভোটার যুক্ত করার ক্ষেত্রে কমিশনের নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। আবেদনকারীর দাবি, নিয়ম ভেঙে একাধিক ক্ষেত্রে বিপুল সংখ্যক ফর্ম ৬ জমা পড়েছে এবং সেগুলির ভিত্তিতে নতুন ভোটারদের নাম যুক্ত করা হয়েছে।
এই বিষয়টি শুধু আইনি নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গে ফর্ম ৬ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-নেত্রীরা বারবার সরব হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বেআইনিভাবে গুচ্ছ গুচ্ছ ফর্ম নির্বাচন কমিশনের দফতরে জমা করা হয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকায় অস্বচ্ছভাবে নাম যুক্ত করা হচ্ছে। ফলে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে বিরোধীরা এই প্রক্রিয়াকে প্রশাসনিক অনিয়ম হিসেবে দেখছে এবং স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়। তবে আদালতে ঘটনাটি প্রত্যাশিতভাবে এগোয়নি। আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী মৌখিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করলে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সেই আবেদন শুনতে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, শুধুমাত্র মৌখিকভাবে উত্থাপিত বিষয়ের ভিত্তিতে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না। নিয়ম অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ পিটিশন দাখিল করতে হবে।
এই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্য বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, “এবার শুধু পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এর শুনানি করার জন্য একটা বেঞ্চ গঠন করতে হবে।” তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, এই ধরনের বিষয়গুলি যদি নিয়ম মেনে এবং লিখিতভাবে উপস্থাপন করা হয়, তবে সেগুলি নির্দিষ্ট বেঞ্চে যথাযথভাবে শুনানি করা সম্ভব। কিন্তু বারবার মৌখিকভাবে বিষয় উত্থাপন করে তাৎক্ষণিক শুনানির দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। প্রধান বিচারপতি আরও জানান, আদালত সব পক্ষের বক্তব্য শোনার জন্য প্রস্তুত, তবে তার জন্য প্রক্রিয়াগত নিয়ম মানা আবশ্যক। যদি আবেদনকারী যথাযথভাবে পিটিশন ফাইল করেন, তবে সুপ্রিম কোর্ট আইন অনুযায়ী বিষয়টি শুনবে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবে।




















