নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে (Sujay Krishna Bhadra) ‘কালীঘাটের কাকু’ শুক্রবার কলকাতা নগর দায়রা আদালতে এসে ফের খবরের শিরোনামে। আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া সংক্রান্ত নথি গ্রহণ করতে এসে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হলেও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। বারবার প্রশ্ন করা হলেও হাতজোড় করে ‘নো কমেন্টস’ বলেই এড়িয়ে যান। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করে জানান নিয়োগ দুর্নীতির ঘটনায় যাঁরা প্রকৃত দোষী, তাঁদের শাস্তি হওয়া উচিত এবং সেই সিদ্ধান্ত আদালতের উপরই ছেড়ে দিচ্ছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র (Sujay Krishna Bhadra) আগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় আগামী কিছুদিনের মধ্যেই বিচারপর্ব শুরু হওয়ার কথা। সেই কারণেই এদিন আদালতে তাঁকে বিচারপ্রক্রিয়া সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি হস্তান্তর করা হয়। আদালতের কাজ শেষ করে বেরোনোর সময়ই সাংবাদিকরা তাঁকে ঘিরে ধরেন এবং সাম্প্রতিক নানা অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করেন।
এই জিজ্ঞাসাবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে (Sujay Krishna Bhadra) ছিল কয়েক দিন আগে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জামিনে মুক্ত তাপস মণ্ডলের করা একটি দাবি। তাপস মণ্ডল অভিযোগ করেছেন, সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের মাধ্যমে ১৯ কোটি টাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছেছিল। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই সাংবাদিকরা জানতে চান, এই অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর কী বক্তব্য এবং তিনি কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আড়াল করছেন?
প্রথমে প্রায় সমস্ত প্রশ্নই এড়িয়ে যান সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। এক সাংবাদিক জানতে চান, তিনি কি চান প্রকৃত দোষীদের শাস্তি হোক? উত্তরে তিনি প্রথমে মাথা নেড়ে সম্মতি জানান। এরপর তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, কারা দোষী বলে তিনি মনে করেন? তখনই সংক্ষিপ্ত উত্তর দেন, “যাঁরা দোষী।” কিন্তু সেই দোষীদের পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “কী করে বলব আমি।” অর্থাৎ কোনও ব্যক্তি বা নাম উল্লেখ করতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন তিনি।
এরপর সাংবাদিকরা আরও সরাসরি প্রশ্ন করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তিনি কেন কোনও মন্তব্য করছেন না? তিনি কি তাঁকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন? এই প্রশ্ন শুনে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র হাতজোড় করে বলেন, “প্লিজ, আমাকে ছাড়ুন না।” এরপর আবারও তিনি একই অবস্থান স্পষ্ট করেন। তাঁর কথায়, “চাই, দোষীরা শাস্তি পাক। যারা দোষী, তারা পাবে। আদালত বিচার করবে। আদালতের উপর ছাড়ছি।”


