মেসি ইভেন্টকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় নতুন মোড় নিল আইনি লড়াই। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হলেন শতদ্রু দত্ত। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেন শতদ্রুর আইনজীবী। আগামী সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আদালত সূত্রে খবর। (Satadru Dutta)
প্রসঙ্গত, তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির নাম জড়িয়ে একটি অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছেন শতদ্রু দত্ত।Satadru Dutta) তাঁর অভিযোগ, ওই ঘটনার পিছনে প্রশাসনিক গাফিলতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক অনিয়মের যোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। গত ১০ জুন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলার শুনানি হয়। সেই সময় আদালত অরূপ বিশ্বাসকে শর্তসাপেক্ষ অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ প্রদান করে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত এফআইআরের ভিত্তিতে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনও স্থগিতাদেশ থাকছে না এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে প্রাক্তন মন্ত্রীকে।
শুনানির সময় আদালত অরূপ বিশ্বাসের বারবার হাজিরা এড়ানোর বিষয়টি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানান, পুলিশ তদন্তের স্বার্থে ডাকলে নির্ধারিত দিনেই হাজিরা দিতে হবে। তদন্তের সঙ্গে অসহযোগিতা বরদাস্ত করা হবে না বলেও আদালত জানিয়ে দেয়। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়, অরূপ বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠানোর ক্ষেত্রে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে জানাতে হবে।(Satadru Dutta)
এই নির্দেশেই আপত্তি জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছেন শতদ্রু দত্ত। তাঁর পক্ষের আইনজীবীর দাবি, মামলার গুরুত্ব এবং অভিযোগের প্রকৃতি বিবেচনা করলে অভিযুক্তকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া উচিত হয়নি। অভিযোগকারীর বক্তব্য, তদন্ত প্রক্রিয়া যাতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এগোতে পারে, সেই স্বার্থেই সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছিলেন শতদ্রু দত্ত। সেই মামলায় তাঁকে প্রায় ৩৮ দিন জেলেও কাটাতে হয়। পরবর্তীকালে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তিনি অরূপ বিশ্বাসের (Satadru Dutta)বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়।Satadru Dutta)
অভিযোগের (Satadru Dutta)ভিত্তিতে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পক্ষ থেকে অরূপ বিশ্বাসকে নোটিস পাঠানো হয়। এরপরই আইনি সুরক্ষা চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। সেখানেই তিনি অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পান। তবে আদালত একই সঙ্গে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় এবং তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশও জারি করে।
এখন শতদ্রু দত্তের করা নতুন আপিলের ফলে মামলাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে চলেছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ বহাল রাখবে নাকি নতুন কোনও নির্দেশ দেবে, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের। আগামী সপ্তাহের সম্ভাব্য শুনানিতে এই মামলার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যেতে পারে।



