Saturday, February 4, 2023

দু’বছরে এই প্রথম মুম্বইয়ে করোনায় মৃত্যুশূন্য, তৃতীয় ঢেউ নাও আসতে পারে: অনুমান বিশেষজ্ঞদের

- Advertisement -

নিউজ ডেস্ক, মুম্বই: ২০২১-এর মার্চ মাসে থেকে গোটা দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছিল। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত ও মারা গিয়েছিল মহারাষ্ট্রে। রাজধানী মুম্বইয়ের পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। এরই মধ্যে দেড় বছর পর এই প্রথম সামনে এল এক আশার খবর। দীর্ঘ ১৮ মাস ২১ দিন পর রবিবার করোনায় মৃত্যুর কোন খবর নেই মুম্বইয়ে। পাশাপাশি এদিনই এক আশার কথা শুনিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেছেন, দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ নাও আসতে পারে।

- Advertisement -

উল্লেখ্য, ২০২০ – ২৭ মার্চ মুম্বইয়ে প্রথম করোনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। তারপর ক্রমশ করোনার হটস্পট হয়ে উঠেছিল মুম্বই। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন মুম্বইয়ে। করোনা রুখতে মহারাষ্ট্রের উদ্ধব ঠাকরে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছিল। সরকারের সেই গৃহীত ব্যবস্থার সুফল এতদিনে মিলল। করোনার প্রথম ঢেউয়ে মুম্বইয়ে ২০২০-র ২১ জুন সবচেয়ে বেশি ১৩৬ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

third wave may not come: Experts

- Advertisement -

২০২১ সালের ১ মে মুম্বইয়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সর্বাধিক ৯০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। করোনা রুখতে এই শহরে জোর গতিতে চলছে টিকাদান। জানা গিয়েছে মুম্বইয়ে ৯৭ শতাংশ মানুষ ইতিমধ্যেই করোনা টিকার অন্তত একটি ডোজ পেয়েছেন। ৫৫ শতাংশ মানুষ পেয়েছেন দুটি ডোজ। মুম্বইয়ের পুরো কমিশনার ইকবাল সিং চাহাল জানিয়েছেন মুম্বইতে, খুব শীঘ্রই দৈনিক মৃত্যু শূন্যে নেমে আসবে। এজন্য বৃহনমুম্বই পুরোনিগমের স্বাস্থ্য কর্মীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

বিএমসির অতিরিক্ত কমিশনার সুরেশ কাকানি বলেছেন, শেষ পর্যন্ত আমরা মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে সফল হয়েছি। এই মুহূর্তে শহরে করোনা পজিটিভিটি রেট ১.২ শতাংশ।

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন করানোর তৃতীয় ঢেউ ভারতে নাও আসতে পারে। হরিয়ানার সোনিপত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গৌতম মেনন বলেছেন, দেশে দ্রুত গতিতে টিকাকরণ চলছে। মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডির পরিমাণ বেড়েছে। পাশাপাশি ডেল্টা ভেরিয়েন্টের প্রকোপ অনেকটাই কমেছে। এসবের জেরে শেষ পর্যন্ত হয়তো ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউ নাও আসতে পারে।

দেশের মহামারী বিশেষজ্ঞ চন্দ্রকান্ত লাহড়িয়া বলেছেন, ডেল্টা ভেরিয়েন্ট অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের শরীরে বন্ধুর মতন আচরণ করে। ডেল্টা ভেরিয়েন্টের জন্যই কোভিডের অন্যান্য ভেরিয়েন্ট আর সংক্রমণ ছড়াতে পারছে না। লাহড়িয়া আরও বলেন, সম্প্রতি দেখা গিয়েছে প্রায় ৭৬ শতাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের ৭০ শতাংশকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়ে গিয়েছে। এসবের কারণে ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা এখন অনেক কম।