রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এখন অন্যতম আলোচিত বিষয় তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। গত কয়েক সপ্তাহে একের পর এক নেতা ও কর্মীর দলত্যাগ এবং বিরোধী শিবিরে যোগদানের ঘটনায় চাপে পড়েছে তৃণমূল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে অসন্তোষ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশই এই দলবদলের অন্যতম কারণ। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনকে ধরে রাখতে এবং কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।(Mamata Banerjee)
দলীয় সূত্রে খবর, সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব ছাড়া অন্যান্য কমিটি ও সাংগঠনিক পদে নতুন মুখ মনোনয়নের ক্ষেত্রে আপাতত তাড়াহুড়ো করা হবে না। সম্প্রতি যেভাবে বিভিন্ন নেতা দল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিয়েছেন, তাতে নতুন করে কাউকে সামনে এনে পরবর্তীকালে রাজনৈতিক অস্বস্তির মুখে পড়তে চাইছে না তৃণমূল। ফলে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এই আবহেই আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তৃণমূল (Mamata Banerjee) সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে এবার থেকে তিনি নিয়মিত ‘জনতার দরবার’-এ বসবেন। কালীঘাটে নিজের বাসভবনেই প্রতিদিন দুপুর তিনটে থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত দলের নেতা, কর্মী এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সমস্যা ও পরামর্শ শুনবেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, (Mamata Banerjee) এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব হবে, তেমনই দলের নীচুতলার কর্মীদের মনোবলও বাড়বে। দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের শক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে গণসংযোগকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পুরনো কৌশলকেই আরও একবার সামনে আনতে চলেছেন তিনি।
শুধু কালীঘাটের বাসভবনেই নয়, তৃণমূলের পার্টি অফিসেও ‘জনতার দরবার’-এর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গেছে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের কর্মী-সমর্থকরা সরাসরি তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। নেতৃত্বের আশা, এর ফলে মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত ধারণা পাওয়া যাবে এবং সমস্যার সমাধানও ত্বরান্বিত হবে।



