দুর্গাপুজোর অন্যতম (Suruchi Sangha) আকর্ষণ কলকাতার সুরুচি সঙ্ঘে এ বার বড় সাংগঠনিক পরিবর্তন ঘটল। বহু বছর ধরে যে পুজো কমিটির সঙ্গে অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল, সেই কমিটি থেকেই তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটির তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
নতুন কমিটি অনুযায়ী, প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস আর প্রধান উপদেষ্টা পদে থাকছেন না। একই সঙ্গে সম্পাদক পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁর ভাই, তৃণমূল নেতা স্বরূপ বিশ্বাসকে। তাঁর জায়গায় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার। এই পরিবর্তন শুধু একটি পুজো কমিটির রদবদল নয়, বরং কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় দুর্গাপুজোকে ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলেও মনে করছেন অনেকে।(Suruchi Sangha)
সুরুচি সঙ্ঘের দুর্গাপুজো দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতার অন্যতম সেরা আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত। অভিনব থিম, শিল্পসম্মত মণ্ডপ, আলোকসজ্জা এবং প্রতিমার জন্য প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থীর ভিড় জমে এই পুজোয়। শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ এই পুজো দেখতে আসেন। ফলে এই পুজো কমিটির নেতৃত্বে পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই নজর কেড়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সুরুচি সঙ্ঘ কার্যত বিশ্বাস-ভাইদের পুজো বলেই পরিচিত ছিল। অরূপ বিশ্বাসের রাজনৈতিক প্রভাব এবং স্বরূপ বিশ্বাসের সাংগঠনিক ভূমিকার কারণে ক্লাবের বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি সব ক্ষেত্রেই তাঁদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যেত। টলিউডের বহু পরিচিত অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালক ও শিল্পীদেরও নিয়মিত দেখা যেত সুরুচি সঙ্ঘের বিভিন্ন (Suruchi Sangha) অনুষ্ঠানে। সেই কারণেই এই ক্লাবের সঙ্গে চলচ্চিত্র জগতের একটি বিশেষ যোগসূত্র তৈরি হয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে নানা বিতর্ক সামনে এসেছে। একটি মামলার তদন্তে তাঁকে একাধিকবার পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও তাঁকে নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, স্বরূপ বিশ্বাসও একাধিক অভিযোগের মুখে রয়েছেন। তোলাবাজি, হুমকি এবং ষড়যন্ত্র-সহ বিভিন্ন মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে এবং বর্তমানে তিনি গ্রেপ্তার রয়েছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সুরুচি সঙ্ঘের পুজো কমিটিতে তাঁদের অপসারণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।





