ওবিসি সংরক্ষণ বিল (OBC Reservation Bill) নিয়ে বিধানসভায় সাম্প্রতিক ভোটাভুটি এবং শাসক শিবিরের অন্দরে দুই গোষ্ঠীর প্রকাশ্য মতবিরোধের পর এবার নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল রাজ্য রাজনীতিতে। বিদ্রোহী শিবিরের ভেতরে এবার বড়সড় ফাটল ধরেছে বলে দাবি করলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁর অভিযোগ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর অনেকেই এখন আর তাঁকে নেতা হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।(Kunal Ghosh)
কুণাল ঘোষ, (Kunal Ghosh) যিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত, দাবি করেন যে বিদ্রোহী শিবিরে ঐক্য আর আগের মতো নেই। তাঁর কথায়, একসময় যে শিবিরকে সংগঠিত ও শক্তিশালী মনে করা হচ্ছিল, এখন সেখানে আস্থা ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কুণালের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্রোহী শিবিরের বহু বিধায়কই নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে আর মানতে পারছেন না।
রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অপ্রত্যাশিত ভরাডুবির পর থেকেই রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন দেখা যায়। সেই সময় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে একটি পৃথক গোষ্ঠী তৈরি হয় বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। ধীরে ধীরে এই শিবিরে কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম-সহ একাধিক বিধায়ক যুক্ত হন বলেও দাবি করা হয়। সংখ্যার হিসেবে সেই শিবিরে নাকি ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক একত্রিত হয়েছিলেন এবং বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ভূমিকা পান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে কুণাল ঘোষের অভিযোগ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ঐক্য ভেঙে পড়ছে। তাঁর দাবি, বিদ্রোহী শিবিরের ভেতরে থাকা একাংশ বিধায়ক এখন নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন এবং নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছেন। কুণালের কথায়, অনেককে নাকি রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্বস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় অনেকে এখন অসন্তুষ্ট।
এই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) আরও বলেন, যাঁদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয় তৃণমূলের সঙ্গে জড়িত, তাঁরা কিছু সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না। তাঁর মতে, এরই ফলস্বরূপ বিদ্রোহী শিবিরে এখন নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং ভবিষ্যতে এর আরও বড় প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।
বিধানসভায় সম্প্রতি পাশ হওয়া গুন্ডাদমন বিল (Anti-Rowdyism Bill) ভোটাভুটির প্রসঙ্গ টেনে কুণাল আরও দাবি করেন, শাসক শিবির কৌশলগতভাবে ভোটদান থেকে বিরত থাকলেও ফলাফলে দেখা গেছে আরও অনেক বিধায়কও একই পথে হেঁটেছেন। তাঁর মতে, এটি প্রমাণ করে যে বিদ্রোহী শিবিরের ভেতরে নির্দেশ মানা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং সবাই আর একক নেতৃত্বের অধীনে নেই





