বুধবারই হবে মমতার সভা, কিন্তু আদালতের শর্ত মানতে হবে মমতাকে

৮ জুলাই কলকাতায় কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) প্রস্তাবিত মিছিলের অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে একাধিক শর্তের ভিত্তিতে। সাধারণ মানুষের চলাচল, যানবাহন…

Kolkata TMC Meeting Witnesses Huge Influx of Party Workers

৮ জুলাই কলকাতায় কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) প্রস্তাবিত মিছিলের অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে একাধিক শর্তের ভিত্তিতে। সাধারণ মানুষের চলাচল, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিষেবা যাতে কোনওভাবে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে আদালত বেশ কিছু কঠোর নির্দেশ জারি করেছে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী,(TMC) মিছিলটি নির্ধারিত পথেই করতে হবে। বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে শুরু হয়ে মিছিল হাজরা মোড়ে গিয়ে শেষ হবে। মিছিলের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে আদালত। দুপুর আড়াইটে থেকে বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে, অর্থাৎ সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টার মধ্যেই কর্মসূচি শেষ করতে হবে। এর বেশি সময় ধরে মিছিল চালানো যাবে না।

এছাড়া মিছিলে (TMC) অংশগ্রহণকারীর সংখ্যার উপরেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এক হাজারের বেশি মানুষ এই মিছিলে অংশ নিতে পারবেন না। পাশাপাশি মিছিল চলাকালীন রাস্তার অন্তত একটি লেন বা ফ্ল্যাঙ্ক সম্পূর্ণভাবে যান চলাচলের জন্য খোলা রাখতে হবে। যাতে সাধারণ মানুষ এবং জরুরি পরিষেবার যানবাহন কোনও সমস্যার মুখে না পড়ে, সেই বিষয়টি বিশেষভাবে নজরে রাখতে বলা হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আদালতে সওয়াল করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মিছিলের জন্য নির্ধারিত রুটকে সমর্থন করেন। তাঁর বক্তব্য, বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে ল্যান্সডাউন পর্যন্ত যে রাস্তা বেছে নেওয়া হয়েছে, সেখানে কোনও হাসপাতাল নেই। ফলে জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা কম। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, এই নির্দিষ্ট পথে মিছিল হলে সাধারণ মানুষের চলাচলেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হবে না।

তবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ভিন্ন মত তুলে ধরা হয়। রাজ্যের এএজি রাজদীপ মজুমদার আদালতে কলকাতা পুলিশের নিয়মের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সাধারণত কোনও মিছিল বা রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য অন্তত ১৫ দিন আগে আবেদন করার নিয়ম রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক কর্মসূচির অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সাধারণ মানুষের সুবিধা এবং জনস্বার্থের বিষয়টিও প্রশাসনের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

রাজ্যের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত মিছিলের রুটটি অত্যন্ত ব্যস্ত এবং তুলনামূলকভাবে সরু রাস্তা। ওই এলাকায় যানজটের সমস্যা প্রায়ই দেখা যায়। পাশাপাশি আশপাশে হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় বড় জমায়েত হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং চিকিৎসা পরিষেবার উপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মিছিলের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে জনসাধারণের অসুবিধার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে আদালতে জানানো হয়।

দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, রাজনৈতিক কর্মসূচি করার অধিকার থাকলেও তা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে না। সেই কারণেই নির্দিষ্ট সময়, নির্দিষ্ট রুট এবং অংশগ্রহণকারীর সংখ্যার সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।