বিতর্কের মাঝেই সংস্কৃতির বার্তা, প্রজাতন্ত্র দিবসে বঙ্কিমচন্দ্রকে সামনে রাখছে বাংলা

এক মাস আগেই বন্দেমাতরম ইস্যুতে উত্তাল হয়েছিল সংসদ। সেই সময় সংসদের শীতকালীন অধিবেশন চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে তীব্র…

bengal-places-bankim-chandra-at-the-forefront-of-republic-day-tableau

এক মাস আগেই বন্দেমাতরম ইস্যুতে উত্তাল হয়েছিল সংসদ। সেই সময় সংসদের শীতকালীন অধিবেশন চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল বন্দেমাতরমের অর্থ, তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং সাংস্কৃতিক চেতনা। তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেছিল যে, একদিকে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ও সংগ্রামী আন্দোলনকে সস্তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে বিজেপি, অন্যদিকে বাংলার সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও বাঙালি চেতনা থেকেও বিজেপির দূরত্ব স্পষ্ট। ঠিক সেই সময়ে, বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস এবং বঙ্গভাষার সাহিত্যের মাধুর্য নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করা হয়েছিল।

এবার, সেই একই বার্তা কিন্তু আরও নিঃশব্দে এবং শক্তভাবে পৌঁছানো হচ্ছে প্রজাতন্ত্র দিবসে বাংলার ট্যাবলোর মাধ্যমে। এই বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের থিম ‘বন্দেমাতরমের দেড়শ বছর’এবং সেই থিমের মধ্য দিয়ে বাংলার ট্যাবলোর সজ্জায় প্রথম সারিতে থাকছেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, যিনি “আনন্দমঠ”-এর লেখক এবং ‘বন্দেমাতরম’ গানটির রচয়িতা।

Advertisements

বন্দেমাতরম এই গানটি স্বাধীনতা আন্দোলনে উজ্জীবনের মন্ত্র হয়ে উঠেছিল। আজও তার আবেদন অটুট। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের এই গানটি একদিকে যেমন ছিল জাতীয়তাবোধের প্রতীক, তেমনি তা বাংলার সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে বর্তমানে যে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্ক তোলপাড় করছে ভারতীয় রাজনীতি, সেখানে বন্দেমাতরম গানটির ভূমিকা খুবই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

যেহেতু এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসে থিম বন্দেমাতরমের দেড়শ বছর, তাই সেই বার্তা তুলে ধরতে বাংলার ট্যাবলোয় বিশেষভাবে স্থান পেয়েছেন বঙ্কিমচন্দ্র। ট্যাবলোর প্রথম সারিতে থাকছেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, এক হাতে আনন্দমঠ বই এবং অন্য হাতে বন্দেমাতরম গানটির পংক্তি উচ্চারণ করতে থাকা, যেন তিনি ঐতিহাসিক মুহূর্তটি আবারো জীবন্ত করে তুলছেন।