‘দোষীদের আড়াল করা হচ্ছে’, বারুইপুর ইস্যুতে বিজেপিকে তোপ মহুয়ার

বারুইপুরে ১১ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার দিল্লিতে কীর্তি আজাদের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক…

Mahua Moitra Blames BJP for 'Protecting Wrongdoers' in Baruipur Case

বারুইপুরে ১১ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার দিল্লিতে কীর্তি আজাদের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুললেন মহুয়া মৈত্র। তাঁর দাবি, ঘটনার পর নির্যাতিতার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তদের ধরে ফেললেও বিজেপির এক নেতা তাঁদের পালাতে সাহায্য করেন। পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তদন্তে বিলম্বের অভিযোগ করেন তিনি।

সাংবাদিক বৈঠকে মহুয়া মৈত্র বলেন, বারুইপুরের ঘটনায় স্থানীয় মানুষ দ্রুত পদক্ষেপ করেছিলেন। তাঁর দাবি, নির্যাতিতার পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীরা অভিযুক্তদের ধরে ফেলেছিলেন। কিন্তু শান্তনু মণ্ডল নামে এক বিজেপি নেতা তাঁদের পালাতে সাহায্য করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। মহুয়ার কথায়, এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং বিষয়টিরও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, যারা অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব হন মহুয়া তিনি অভিযোগ করেন, এত বড় একটি অপরাধের পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়নি। মহুয়ার দাবি, জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার পরদিন সকাল সাড়ে দশটার আগে ঘটনাস্থলে পৌঁছননি। তাঁর বক্তব্য, শিশু নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত উপস্থিতি এবং সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি ছিল।

বারুইপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনা ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ, ১১ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে আরও ভয়াবহ তথ্য। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, ধর্ষণের পর নির্যাতিতাকে একটি বস্তার মধ্যে ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই সময়ও নাবালিকার শরীরে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল। এই তথ্য সামনে আসার পর ক্ষোভ আরও বাড়ে এবং দোষীদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন বিভিন্ন মহল।

এই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মহুয়া মৈত্র বলেন, এমন নৃশংসতা কল্পনারও বাইরে। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার ভয়াবহতা সত্ত্বেও প্রশাসনের মধ্যে প্রয়োজনীয় তৎপরতা দেখা যায়নি। তিনি বলেন, এমন অপরাধের তদন্তে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত তদন্ত, তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।

এদিন নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেও কটাক্ষ করেন মহুয়া। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় বিরোধী নেতাদের নির্যাতিতার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। এই প্রসঙ্গ তুলে তিনি বিজেপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বিজেপির ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে মহুয়া বলেন, “আমাদের এত ভয় কেন?” তাঁর মতে, রাজনৈতিক প্রচারের পরিবর্তে এই মুহূর্তে সবচেয়ে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো।

যদিও মহুয়া মৈত্রের তোলা অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেনসিক রিপোর্ট, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনের দাবি।