Monday, January 30, 2023

বিজেপির ষড়যন্ত্রের হাত থেকে বাংলাকে বাঁচাতে পথে নামল বাংলাপক্ষ

- Advertisement -

নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতে তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। তারপর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ‘বাংলা মানেই কলকাতা, উত্তরবঙ্গ বঞ্চনার শিকার’ বলে উত্তরবঙ্গকে আলাদা রাজ্য ঘোষণা করার দাবি তুলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। একইভাবে জঙ্গলমহলকেও আলাদা রাজ্য ঘোষণার দাবি তুলেছে পদ্মশিবির। 

বিজেপির বাংলা ভাগের এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে এবার পথে নামল বাংলাপক্ষ৷ বাংলাপক্ষর পূর্ব বর্ধমান জেলার সম্পাদক জুয়েল মল্লিকের নেতৃত্বে বুদবুদে একটি মিছিল ও সভা হয়। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডক্টর গর্গ চট্টোপাধ্যায় এবং সংগঠনের অন্যতম নেতা কৌশিক মাইতি। এছাড়াও মিছিলে ছিলেন মনোজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডাঃ অরিন্দম বিশ্বাস, করবী রায়, মনন মন্ডল, পূর্ব বর্ধমানের জেলা সম্পাদক জুয়েল মল্লিক, সহ-সম্পাদক অসিত সাহা, পশ্চিম বর্ধমান, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হুগলীর জেলার সম্পাদক সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

বাংলা ভাগের চক্রান্ত হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী বিজেপি দীর্ঘদিন করছে৷ এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে বাংলাকে উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গ দুই রাজ্যে ভাগ করে গোটা বাঙালি জাতিকে দুর্বল করার প্রক্রিয়া এখনও ভীষণ রকম ভাবে সক্রিয় বলে মনে করে বাংলাপক্ষ৷ পাশাপাশি ভূমিপুত্র সংরক্ষণ তথা যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের সমস্ত পরীক্ষা বাংলা ভাষায় দেওয়ার সুযোগের দাবিও তোলা হয় এই পথসভায়। এই পরিস্থিতিতে বাঙালি জাতির একতা এবং এই বাংলায় নিজেদের চাকরি বাজার, পুঁজি ব্যবসায় আধিপত্য যদি সুনিশ্চিত করতে হয়, তাহলে বাংলা ভাগ যেকোনও মূল্যে প্রতিহত করতে হবে বলে এদিনের সভায় উঠে আসে৷

- Advertisement -

garga chatterjee

এছাড়াও বাংলার প্রত্যেকটি সরকারি চাকরিতে ভূমিপুত্র সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করতে বাংলা পক্ষ ভূমিপুত্র সংরক্ষণ আইন প্রণয়নের দাবিতে জোর সওয়াল করা হয়৷ বাঙালি তথা যেকোনও অহিন্দি জাতির প্রতিনিধিত্ব দিনের পর দিন যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারি চাকরি গুলো থেকে কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং হিন্দিতে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে যেভাবে হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলো থেকে সেখানকার বাসিন্দাদের একতরফা চাকরির সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে, তাতে ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে আঘাত নেমে আসছে সেই তথ্য তুলে ধরে বাংলা পক্ষ ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের যেকোনও পরীক্ষায় বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক করার দাবিতে বাঙালির দীর্ঘমেয়াদি জনমত তৈরি করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়৷

Koushik Maity

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায় জানান, “আজ রণ, অর্ণবরা গলসী বিধানসভায় বাঙালিকে এক করছে নিজের অধিকারের দাবিতে। আজ বুদবুদের মাটিতে বাঙালি যেভাবে বাংলা ভাগের বিরুদ্ধে গর্জন করল, তাতে বাঙালি শত্রুরা বার্তা পেয়ে গেছে। ওরা কান খুলে শুনে রাখুক, বাঙালি যেভাবে জেগেছে, হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের দিন ঘনিয়ে আসছে। বাঘের থাবা পড়লে শত্রুরা বুঝে যাবে। বর্ধমানের ধান ও কয়লা দুই বাঙালির দখলে রাখতে হবে।” কৌশিক মাইতি বলেন, “যারা বাংলা ভাগ করতে আসবে, তাদের বাংলা ছাড়া করা হবে। এছাড়া এলাকার সমস্ত রাইস মিলে, শিল্পাঞ্চলে বাঙালির কাজ, চাকরি, টেন্ডারের দাবিতে বাংলা পক্ষ শেষ পর্যন্ত লড়বে।”

এর আগেও বিভিন্ন সভায় গর্গ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, ‘বাংলা ভাগের চক্রান্ত হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের দীর্ঘদিনের। বাঙালিকে যেনতেন প্রকারে দুর্বল করে সেই জায়গায় বাইরে থেকে নিজেদের লোক এনে বসিয়ে বাংলার সবকিছু দখল করার চেষ্টায় বহিরাগত শক্তিরা অবিরত কাজ করে যাচ্ছে। বাংলার মাটিতে যদি বাঙালি জাতির প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করতে হয়, তাহলে আমাদের সবকিছুকে যদি আমাদের নিজেদের করে সামলে যত্নে রাখতে হয় তাহলে চাকরি বাজার পুঁজি ব্যবসা টেণ্ডার লাইসেন্স সমস্ত কিছুকে নিজেদের হাতে রাখতে হবে এবং তার জন্য প্রত্যেকদিন একে অপরকে সাহায্য করে যেতে হবে। না হলে প্রতিদিন দখলদারি বাড়বে৷ বাঙালি তার মাটিতে সংখ্যাধিক হলেও, আমাদেরকে প্রতিদিন পরাস্ত করার চেষ্টা. আমাদেরকে প্রতিদিন দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক করে তোলার প্রক্রিয়া বহিরাগত হিন্দি সাম্রাজ্যবাদীরা চালিয়ে যাবে।’