কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহার বিরুদ্ধে (Kolkata Police) লুক আউট নোটিস জারির পর এবার তাঁর সম্পত্তি সংক্রান্ত তদন্তে আরও সক্রিয় হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সূত্রের খবর, আধিকারিকের আর্থিক লেনদেন ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিস্তারিত খোঁজ শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই তাঁর এবং পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পত্তির তথ্য সংগ্রহে একাধিক দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের একটি অংশ জানাচ্ছে, শান্তনু সিনহা, তাঁর স্ত্রী এবং দুই ছেলের নামে কোথায় কী ধরনের সম্পত্তি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কলকাতা, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা এবং রাজ্যের বাইরে থাকা সম্পত্তির খোঁজও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে জমি, ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক সম্পত্তি এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত নথি যাচাই করা হচ্ছে।
ইডির পক্ষ থেকে বিভিন্ন রেজিস্ট্রার অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আয়কর দফতরের সঙ্গেও সমন্বয় করে পরিবারের আর্থিক লেনদেনের হিসাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, সম্পত্তির প্রকৃত উৎস এবং আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করাই মূল লক্ষ্য।
সূত্রের আরও দাবি, শুধু স্থাবর সম্পত্তি নয়, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিট, বীমা ও অন্যান্য আর্থিক বিনিয়োগ সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়া সন্দেহজনক লেনদেন বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই শান্তনু সিনহার বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করা হয়েছিল, যাতে তিনি দেশ ছাড়তে না পারেন এবং তদন্তের আওতায় থাকেন। সেই ঘটনার পরই নতুন করে সম্পত্তি সংক্রান্ত তদন্তে গতি আনে ইডি। প্রশাসনিক মহলে এই ঘটনার পর থেকেই ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
তবে তদন্ত ঘিরে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত অভিযোগ বা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্তকারী সংস্থাগুলি জানিয়েছে, এটি প্রাথমিক পর্যায়ের অনুসন্ধান, এবং সমস্ত নথি বিশ্লেষণের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিরোধী পক্ষ এই তদন্তকে স্বাগত জানালেও শাসক দলের একাংশের মতে, কোনও রকম রায় দেওয়ার আগে তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়া উচিত। অন্যদিকে প্রশাসনের একটি অংশ মনে করছে, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এ ধরনের তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




















