কলকাতার ময়দান (Kolkata Football) এক সময় ছিল ভারতীয় ফুটবলের প্রাণকেন্দ্র। তিন প্রধানের ( মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান) এই বড় ম্যাচ মানেই ছিল গ্যালারি উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু এখন ছবিটা অনেকটাই বদলে গেছে। প্রশ্ন উঠছে—ময়দানের ফুটবল দর্শক কমছে কেন? দশ-পনেরো বছর আগেও কলকাতা লিগ বা বড় ডার্বি ম্যাচে গড় দর্শকসংখ্যা থাকত প্রায় পঞ্চাশ থেকে ষাট হাজার। বিশেষ করে ইডেন বা যুবভারতীতে ডার্বি মানেই টিকিটের হাহাকার। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই সংখ্যা অনেকটাই কমেছে।
২০২৩-২৪ মরশুমে আই লিগ বা কলকাতা লিগের বেশিরভাগ ম্যাচে গড় দর্শকসংখ্যা নেমে এসেছে পাঁচ থেকে দশ হাজারে। অনেক ম্যাচে তো গ্যালারির অর্ধেকও ভরে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, আইএসএল চালু হওয়ার পর দর্শকদের আগ্রহ বড় লিগের দিকে বেশি ঝুঁকেছে। আইএসএল-এর ঝকঝকে আয়োজন, টেলিভিশন সম্প্রচার এবং তারকাখচিত দল দর্শকদের টানছে। ফলে স্থানীয় লিগের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, ডিজিটাল যুগের প্রভাবও বড় কারণ। এখন মোবাইল বা টিভিতে বসেই খেলা দেখা যায়। ফলে অনেকেই মাঠে যাওয়ার ঝামেলা নিতে চান না। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। একটি সমীক্ষা বলছে, কলকাতার প্রায় ষাট শতাংশ তরুণ এখন স্টেডিয়ামে না গিয়ে অনলাইনেই খেলা দেখতে পছন্দ করে। তৃতীয়ত, অবকাঠামোর সমস্যা। ময়দানের অনেক মাঠেই দর্শকদের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা নেই—পরিষ্কার টয়লেট, নিরাপত্তা, বসার জায়গা ইত্যাদি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। ফলে পরিবার নিয়ে মাঠে যাওয়ার আগ্রহ কমছে। এছাড়া ক্লাবগুলির পারফরম্যান্সও বড় ভূমিকা রাখছে। যখন ইস্টবেঙ্গল বা মোহনবাগান ভালো ফল করে, তখন দর্শক বাড়ে। কিন্তু খারাপ সময়ে সেই ভিড় দ্রুত কমে যায়। ধারাবাহিকতা না থাকায় দর্শকদের আগ্রহও ওঠানামা করে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল নিরাপত্তা ও সংগঠনের অভাব। অতীতে ডার্বি ম্যাচে একাধিক অশান্তির ঘটনা ঘটেছে, যা অনেক সাধারণ দর্শককে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। পুলিশি কড়াকড়িও অনেক সময় দর্শকদের নিরুৎসাহিত করে। সব মিলিয়ে, ময়দানের ফুটবল আজ এক বড় পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আগের সেই আবেগ এখনও আছে, কিন্তু মাঠে তার প্রতিফলন কমে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দর্শক ফিরিয়ে আনতে হলে উন্নত পরিকাঠামো, ভালো মার্কেটিং এবং স্থানীয় লিগের মানোন্নয়ন জরুরি। না হলে ময়দানের ঐতিহ্য শুধু স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়তে পারে।




















