একটি যুদ্ধবিমানের মাইলেজ প্রতি লিটারে কিলোমিটারে মাপা হয় না। এটি প্রতি লিটারে মিটারে মাপা হয়। এর মানে হলো, এক লিটার পেট্রোল ব্যবহার করে একটি গাড়ি যে দূরত্ব অতিক্রম করে, একটি যুদ্ধবিমানের সেই একই দূরত্ব অতিক্রম করতে তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি জ্বালানির প্রয়োজন হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও বিমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধবিমানের শক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রশ্ন উঠছে, এই দ্রুতগতির যুদ্ধবিমানগুলো কী পরিমাণ জ্বালানি খরচ করে। গাড়ি ও বাইকের মতো এদের জ্বালানি খরচের হিসাব করা হয় না; এর পরিমাপ পদ্ধতি ভিন্ন।
একটি যুদ্ধবিমানের মাইলেজ প্রতি লিটারে কিলোমিটারে মাপা হয় না। এটি প্রতি লিটারে মিটারে মাপা হয়। এর মানে হলো, এক লিটার পেট্রোল ব্যবহার করে একটি গাড়ি যে দূরত্ব অতিক্রম করে, একটি যুদ্ধবিমানের সেই একই দূরত্ব অতিক্রম করতে তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি জ্বালানির প্রয়োজন হয়।
মাঝারি আকারের যুদ্ধবিমানগুলো সাধারণ উড্ডয়নের সময় এক লিটার জ্বালানিতে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার উড়তে পারে। এর মানে হলো, এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে প্রায় ২.৫ থেকে ৩ লিটার জ্বালানি ব্যবহৃত হয়।
যদি একটি জেটকে কোনো অভিযানে ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়, তবে ফেরার পথে ও যুদ্ধের সময়কার অতিরিক্ত খরচ ছাড়াও শুধু সেখানে পৌঁছাতেই শত শত লিটার জ্বালানির প্রয়োজন হয়।
যুদ্ধের সময় পরিস্থিতি আরও বেশি কঠিন হয়ে ওঠে। শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে যখন কোনো পাইলটের দ্রুত গতি বাড়ানোর প্রয়োজন হয়, তখন তিনি আফটারবার্নার ব্যবহার করেন। এই কৌশলটি ইঞ্জিনে অতিরিক্ত শক্তি যোগায়, কিন্তু এর ফলে জ্বালানি খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। আফটারবার্নার চালু করা হলে জেটটির জ্বালানি খরচ তীব্রভাবে কমে যায়। এই অবস্থায় বিমানটি প্রতি লিটারে ১০০ মিটারেরও কম দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। এর মানে হলো, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কয়েক লিটার জ্বালানি খরচ হয়ে যায়।
সব যুদ্ধবিমান একরকম নয়। এফ-২২ বা সুখোই-৩০-এর মতো ভারী, দুই-ইঞ্জিন বিশিষ্ট বিমানগুলো বেশি জ্বালানি খরচ করে। এগুলো প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার লিটার জ্বালানি পোড়াতে পারে।
অন্যদিকে, তেজস বা গ্রিপেনের মতো হালকা, এক-ইঞ্জিন বিশিষ্ট জেট বিমানগুলো তুলনামূলকভাবে কম জ্বালানি খরচ করে, ফলে এগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে রাখা সহজ হয়।
যুদ্ধকালীন সময়ে জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কম জ্বালানি দক্ষতার কারণে জেট বিমানগুলোকে মাঝ-আকাশে ট্যাঙ্কার বিমানের মাধ্যমে জ্বালানি ভরতে হয়। জ্বালানির সঠিক ব্যবস্থাপনা না করা হলে মিশন বাতিল হয়ে যেতে পারে। আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো তাদের পাল্লা এবং জ্বালানি দক্ষতার দিকে বিশেষ মনোযোগ দিয়ে নকশা করা হয়।




















