কলকাতা: একদা পশ্চিমবঙ্গের অবিসংবাদিত নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ নিজের দলের ভিতরেই কোণঠাসা (Amit Malviya)। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অশ্রাব্য ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু এক মাস আগেও যিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, আজ তাঁকে নিজের দলের বিধায়করাই প্রত্যাখ্যান করছেন। দলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন মমতা। বিজেপি নেতা অমিত মালব্য এই পরিস্থিতিতে তীব্র কটাক্ষ করে বলেছেন, “এটাই শুরু মাত্র।”
দল আজ দ্বিধাবিভক্ত। ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৈরী হয়েছে নতুন তৃণমূল। জায়গা হয়নি অভিষেকের। যদিও মমতাকে প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে চেয়েছেন ঋতব্রত, কিন্তু তা পুরোটাই আইনি হয়রানি এড়ানোর জন্য দায় সারা। এই আবহেই মমতাকে তীব্র কটাক্ষ অমিত মালব্যর। তিনি তার এক্স হ্যান্ডেলে বলেছেন নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের জনগণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
আরও দেখুনঃ নব্য তৃণমূলে দূরদূরান্ত অব্দি নেই ‘ভাইপোর’ কাল ছায়া! কি করবেন ‘পিসি’?
তাঁর দীর্ঘ শাসনকালের পর রাজ্যবাসী আর তাঁকে চায়নি। ভোটের ফলাফল তাঁর স্বপ্নে জল ঢেলে দিয়েছে। আর এখন দলের অন্দরেও বিদ্রোহের আগুন জ্বলছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৫৯ জন বিধায়ক মমতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁরা মমতাকে পরামর্শদাতা হিসেবে রাখতে চাইলেও দলের রাশ তাঁর হাত থেকে চলে গেছে বলে স্পষ্ট।
অমিত মালব্য বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভেবেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে গালাগালি করে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাবেন। কিন্তু জনগণ তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আজ তাঁর নিজের দলের লোকেরাই তাঁকে অস্বীকার করছে। এটা শুধু শুরু। তাঁকে নিজের হাতের রক্তের হিসাব দিতে হবে।”
রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন আর লুকিয়ে রাখার উপায় নেই। একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করছেন, অন্যদিকে মমতা সমর্থকরা দলকে একত্রিত রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিরিখে মমতা এখন দলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




















