‘পরিশোধিত পণ্য কিনতে সমস্যা হলে কিনবেন না’ ট্রাম্পকে কড়া জবাব জয়শংকরের

ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর (Jaishankar) শনিবার ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে (ইটি ডব্লিউএলএফ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের হুমকির বিরুদ্ধে কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
Jaishankar slams Trump

ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর (Jaishankar) শনিবার ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে (ইটি ডব্লিউএলএফ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের হুমকির বিরুদ্ধে কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ভারতীয় তেল বা পরিশোধিত পণ্য কিনতে সমস্যা হলে কিনবেন না।

কেউ আপনাকে জোর করে কিনতে বলছে না। ইউরোপ কেনে, আমেরিকা কেনে, আপনার পছন্দ না হলে কিনবেন না।” তিনি ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনার সিদ্ধান্তকে জাতীয় ও বৈশ্বিক স্বার্থের পক্ষে বলে সমর্থন করেন, যা বিশ্বব্যাপী তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক।

   

ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের রাশিয়ান তেল আমদানির জন্য ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে এবং অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ ২৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। এই শুল্ককে ভারত “অন্যায্য, অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য” বলে সমালোচনা করেছে।

জয়শঙ্কর এই শুল্ক আরোপকে “ব্যবসা-বান্ধব” ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরকে ব্যবসা করার জন্য অভিযুক্ত করার বিষয়ে “হাস্যকর” বলে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত রাশিয়ান তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা নয়; চীন এই ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও রাশিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করে। তবুও শুধুমাত্র ভারতের উপর এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

জয়শঙ্কর আরও বলেন, ২০২২ সালে তেলের দাম বৃদ্ধির সময় বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। সেই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে রাশিয়ান তেল কিনতে উৎসাহিত করেছিল যাতে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল থাকে।

তিনি বলেন, “আমরা তেল কিনছি জাতীয় স্বার্থে, তবে এটি বৈশ্বিক স্বার্থেও সহায়ক।” তিনি ভারতের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারের উপর জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের জাতীয় স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আমাদের রয়েছে। এটিই কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের মূল বিষয়।”

ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাধীনভাবে বিবেচিত হওয়া উচিত এবং তৃতীয় কোনও দেশের দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে দেখা উচিত নয়। তিনি ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে “স্থিতিশীল এবং সময়-পরীক্ষিত” হিসেবে উল্লেখ করেন।

ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলি আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে কাজ করে এবং রাশিয়ান তেলের উপর কোনও সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই; বরং, জি৭ দেশগুলির দ্বারা আরোপিত ৬০ ডলার প্রতি ব্যারেল মূল্যসীমার মধ্যে এই বাণিজ্য পরিচালিত হয়।

ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপ ভারতীয় রপ্তানি খাত, বিশেষ করে টেক্সটাইল, রত্ন ও গহনা, সামুদ্রিক পণ্য এবং অটো যন্ত্রাংশের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই) অনুসারে, এই শুল্ক ভারতের মার্কিন রপ্তানিকে ৪০-৫০ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে।

তবে, জয়শঙ্কর স্পষ্ট করেছেন, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ হয়নি। তিনি বলেন, “আমাদের কিছু লাল রেখা রয়েছে, বিশেষ করে কৃষক ও ক্ষুদ্র উৎপাদকদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে।” তিনি ট্রাম্পের প্রকাশ্য কূটনীতির সমালোচনা করে বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ পূর্ববর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টদের থেকে ভিন্ন।

রাশিয়ার দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অফ মিশন রোমান বাবুশকিনও ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞাকে “অন্যায্য” এবং “একতরফা” বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ভারতীয় পণ্য মার্কিন বাজারে প্রবেশে সমস্যা হলে রাশিয়া সেগুলি আমদানি করতে প্রস্তুত।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাশিয়া বা ব্রিকস দেশগুলি কখনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না, এবং এই ধরনের নিষেধাজ্ঞাগুলি অর্থনীতিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।

শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প, আমেরিকায় ডাক পরিষেবা বন্ধ করল ভারত

এই ঘটনা ভারত-মার্কিন সম্পর্কের উপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে, জয়শঙ্করের কঠোর জবাব ভারতের স্বাধীন নীতি ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে। ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলি রাশিয়ান তেলের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের উপর নির্ভরতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে, তবে এটি রাতারাতি সম্ভব নয়।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google