ISL খেলতে টাকার চাপ! আর্থিক দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছে বাংলার ক্লাবগুলো?

কলকাতা: আইএসএল-এ (ISL) খেলা মানে শুধু ট্রফির লড়াই নয়, আর্থিক দিক থেকেও এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়া। দেশের শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে ক্রমেই বাড়ছে খরচ, আর সেই ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
isl-financial-pressure-bengal-clubs-falling-behind-cost-crisis

কলকাতা: আইএসএল-এ (ISL) খেলা মানে শুধু ট্রফির লড়াই নয়, আর্থিক দিক থেকেও এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়া। দেশের শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে ক্রমেই বাড়ছে খরচ, আর সেই চাপেই দিশেহারা হয়ে পড়ছে অনেক ক্লাব।

এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রতিটি ক্লাবকে প্রায় ১ কোটি টাকা এন্ট্রি ফি হিসেবে জমা দিতে হচ্ছে, এমনটাই জানিয়েছে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন। এই টাকা একবারের নয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কিস্তিতে জমা দিতে হয়। কিন্তু এই অঙ্কই মোট খরচের খুব ছোট একটি অংশ। ফুটবলারদের বেতন, বিদেশি খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক, কোচিং স্টাফ, চিকিৎসা ব্যবস্থা, ভ্রমণ খরচ—সব মিলিয়ে একটি ক্লাবের পুরো মরশুম চালাতে খরচ দাঁড়াচ্ছে আনুমানিক ২৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার মধ্যে।।মোহনবাগান এর মতো শক্তিশালী ক্লাবগুলির ক্ষেত্রে এই খরচ আরও বেশি। একাধিক উচ্চমানের বিদেশি ফুটবলার এবং অভিজ্ঞ কোচিং স্টাফ থাকার কারণে তাদের বাজেট প্রায় ৫০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছে যায়। শক্তিশালী পৃষ্ঠপোষক এবং স্পনসর থাকায় তারা তুলনামূলকভাবে এই আর্থিক চাপ সামাল দিতে পারছে।

   

অন্যদিকে ইস্ট বেঙ্গল এফসি-এর মতো ক্লাবগুলির পরিস্থিতি অনেকটাই কঠিন। বিনিয়োগকারী সংস্থার উপর নির্ভরতা, স্থায়ী স্পনসরের অভাব এবং ধারাবাহিক সাফল্য না পাওয়ার ফলে আর্থিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দল গঠনে বারবার পরিবর্তন আনতে গিয়ে খরচ বাড়লেও মাঠে তার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। এই নিয়ে ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার স্পষ্ট জানালেন, “ক্লাবগুলির আর্থিক চাপ দিন দিন বাড়ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ জোগাড় করা সবসময় সম্ভব হচ্ছে না বলেও স্বীকার করেন তিনি। তাঁর মতে, ফেডারেশনের উচিত ক্লাবগুলির পরিস্থিতি বুঝে কিছুটা নমনীয় হওয়া, যাতে প্রতিযোগিতার মান বজায় থাকে”। অন্যদিকে মোহনবাগান সভাপতি দেবাশীষ দত্ত জানান, নিয়মের প্রশ্নে কোনও আপস করা যাবে না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্লাবগুলির সমস্যাও অস্বীকার করা যায় না। তাই পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আলোচনার মাধ্যমেই পথ খুঁজে নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, দ্রুতই এই জটিলতার সমাধান সম্ভব।

ছোট বাজেটের ক্লাবগুলির অবস্থা আরও শোচনীয়। তাদের অনেক সময়ই সীমিত সম্পদের মধ্যে দল গঠন করতে হয়। ফলে ভালো মানের বিদেশি ফুটবলার বা অভিজ্ঞ কোচ আনা কঠিন হয়ে পড়ে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে মাঠের ফলাফলে, এবং একই সঙ্গে কমে যায় দর্শক আগ্রহ ও স্পনসরশিপের সুযোগ। সব মিলিয়ে স্পষ্ট, এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গেলে শুধু ভালো ফুটবল খেললেই হবে না, দরকার শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি। না হলে প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও পিছিয়ে পড়তে হবে। প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতে এই ক্রমবর্ধমান খরচের চাপ কীভাবে সামলাবে ক্লাবগুলো? সঠিক পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ছাড়া এই লড়াই যে আরও কঠিন হতে চলেছে, তা বলাই যায়।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google