Home Politics দীর্ঘদিন ধরে চাকরির নামে প্রতারণা! দুর্গাপুরে গ্রেফতার INTTUC নেতা শেখ ওয়াসুল

দীর্ঘদিন ধরে চাকরির নামে প্রতারণা! দুর্গাপুরে গ্রেফতার INTTUC নেতা শেখ ওয়াসুল

inttuc-leader-sheikh-wasul-arrested-durgapur

দুর্গাপুর: দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রতারণা, (INTTUC leader)ভয় দেখিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাকরির নামে টাকা তোলার অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন INTTUC-র নেতা শেখ ওয়াসুল। শুক্রবার ভোরে পশ্চিম বর্ধমান জেলার লাউডোহা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুর্গাপুর-ফরিদপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

- Advertisement -

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত শেখ ওয়াসুল দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লক এলাকার INTTUC ইউনিটের সভাপতি। তিনি দুর্গাপুরের রাঙ্গামাটি এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ জমা পড়ছিল থানায়। অভিযোগ, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থায় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এলাকার বহু বেকার যুবক-যুবতীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হত। কিন্তু চাকরি তো দূরের কথা, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই প্রতিশ্রুতির কোনও বাস্তব ভিত্তি ছিল না।

   

আরও দেখুনঃ অস্কার ব্রুজোকে ঘিরে লাল-হলুদের আবেগ, ইস্টবেঙ্গলে থাকবেন কোচ?

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, শেখ ওয়াসুলের প্রভাব এতটাই ছিল যে অনেকেই ভয় পেয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। অভিযোগ উঠেছে, শুধু প্রতারণাই নয়, এলাকায় নিজের দাপট বজায় রাখতে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরির মতো কাজেও জড়িত ছিলেন তিনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় ক্ষোভ জমছিল।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগেও তাঁর বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। নির্বাচনের সময় এলাকায় উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছিল বলেও তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়কে হাতিয়ার করেই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার করেছিলেন শেখ ওয়াসুল।

তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে গত কয়েক মাস ধরে তাঁর উপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল। অবশেষে শুক্রবার ভোরে লাউডোহা এলাকায় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিশেষ অভিযান চালায় দুর্গাপুর-ফরিদপুর থানার পুলিশ। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে এবং এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শেখ ওয়াসুলের বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভয় দেখানো, চাঁদাবাজি এবং জনশৃঙ্খলা নষ্ট করার মতো একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শুক্রবারই তাঁকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা আদালতে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানাতে পারেন বলে সূত্রের খবর।

ঘটনার পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি দাবি করেছে, দীর্ঘদিন ধরে শাসকদলের ছত্রছায়ায় থেকেই এই ধরনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন অভিযুক্ত নেতা। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। এলাকার সাধারণ মানুষের একাংশ অবশ্য পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে ভয় ও চাপে থাকা মানুষ এবার কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন। অনেকে আশা করছেন, তদন্ত সঠিক পথে এগোলে আরও বড় চক্রের পর্দাফাঁস হতে পারে।

Follow on Google