নয়াদিল্লি: রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) মঞ্চ থেকে পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানাল ভারত। মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পার্বথানেনি হরিশ (Parvathaneni Harish) ইসলামাবাদকে ‘মিথ্যাচারের কেন্দ্রবিন্দু’ বলে অভিহিত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, সন্ত্রাসবাদকে জিইয়ে রাখার কোনও চেষ্টাই সফল হতে দেবে না নয়াদিল্লি।
‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং ১০ মের গোপন তথ্য
পার্বথানেনি হরিশ গত বছর মে মাসে ভারতের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়েও পাকিস্তানের বয়ানকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে বলেন, “৯ মে পর্যন্ত পাকিস্তান ভারতকে হামলার হুমকি দিচ্ছিল। কিন্তু ১০ মে পরিস্থিতি বদলে যায়। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সরাসরি আমাদের সেনার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং যুদ্ধবিরতির জন্য ‘অনুনয়-বিনয়’ শুরু করে।”
তিনি আরও জানান, ভারতীয় অভিযানে পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটির রানওয়ে এবং হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, যার উপগ্রহ চিত্র ও প্রমাণ ইতিমধ্যেই জনসমক্ষে রয়েছে।
কেন হয়েছিল এই অভিযান? India’s rebuttal to Pakistan at UN
ভারতের প্রতিনিধি মনে করিয়ে দেন, ২০২৫ সালের এপ্রিলে জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁও-এ ঢুকে ২৬ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছিল পাক জঙ্গিরা। তিনি বলেন, “নিরাপত্তা পরিষদ নিজেই এই অপরাধীদের শাস্তির কথা বলেছিল। ভারত ঠিক সেটাই করেছে। আমাদের পদক্ষেপ ছিল অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত এবং শুধুমাত্র জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করার লক্ষ্যেই চালিত।”
সিন্ধু জল চুক্তি এবং কাশ্মীর প্রসঙ্গ
সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়ে পাকিস্তানের অভিযোগের জবাবে হরিশ বলেন, “ভারত ৬৫ বছর আগে বন্ধুত্বের খাতিরে এই চুক্তিতে সই করেছিল। কিন্তু পাকিস্তান হাজার হাজার জঙ্গি হামলা চালিয়ে এই চুক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে। তাই পাকিস্তান যতদিন না সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি বন্ধ করছে, ততদিন ভারত এই চুক্তি স্থগিত রাখতে (Abeyance) বাধ্য হয়েছে।”
কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অনধিকার চর্চার জবাবে তিনি সাফ জানান, “জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। এ বিষয়ে পাকিস্তানের কিছু বলার এক্তিয়ার নেই।”
‘সাংবিধানিক ক্যু’ নিয়ে খোঁচা
পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সীমাহীন ক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে কটাক্ষ করে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বলেন, “পাকিস্তান আগে নিজের দেশের আইনের শাসন নিয়ে ভাবুক। ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে কীভাবে সেনাপ্রধানকে আজীবন দায়মুক্তি দিয়ে দেশে ‘সাংবিধানিক ক্যু’ করা হয়েছে, তা নিয়ে তাদের আত্মসমালোচনা করা উচিত।”
সবশেষে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত যা যা করা প্রয়োজন, সবটাই করবে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চকে পাকিস্তান যেন সন্ত্রাসবাদকে বৈধতা দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার না করে, সেই হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।




















