মধ্যপ্রাচ্যের এই মুহূর্তে যুদ্ধের প্রভাব মাথা চারা দিয়েছে, সারা বিশ্বে তেল ও গ্যাস সঙ্কটে হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে। ভারতে, সাম্প্রতিক দিনগুলিতে এলপিজির তীব্র ঘাটতি দেখা গেছে। সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় গ্যাস এজেন্সিগুলির বাইরে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। এরই মধ্যে, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (বিপিসিএল) গুরুগ্রামে একটি এলপিজি এটিএম চালু করে এক নজির সৃষ্টি করেছে ইতিমধ্যেই। এটি একটি পাইলট প্রকল্প হিসাবে চালু করা হয়েছে।
যে সময়ে দেশ এলপিজি সরবরাহের অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করছে, সেই সময়ে সরকার তড়িঘড়ি করে এলপিজি সংক্রান্ত বেশ কিছু নিয়ম পরিবর্তন করেছে, যার মধ্যে গ্যাস সিলিন্ডার বুকিংয়ের সময়সীমা বাড়ানো থেকে শুরু করে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পর্যন্ত রয়েছে। তবে, এই সঙ্কটের মধ্যে তেল সংস্থাগুলি সরকারি নির্দেশে তাদের এলপিজি উৎপাদন বাড়িয়েছে। এরই মধ্যে, এই খাতের একটি অগ্রণী সংস্থা বিপিসিএল একটি নতুন উদ্যোগ নিয়ে গুরুগ্রামে একটি এলপিজি এটিএম চালু করেছে, যা ব্যবহারকারীদের মিনিটের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ করে।
এলপিজি এটিএমটি গুরুগ্রামের সোহনার সেক্টর ৩৩-এর একটি আবাসিক টাউনশিপে স্থাপন করা হয়েছে। এই স্বয়ংক্রিয় এলপিজি ভেন্ডিং সিস্টেমটি মানুষকে ২-৩ মিনিটের মধ্যে খালি সিলিন্ডারের বদলে ভরা, হালকা কম্পোজিট সিলিন্ডার নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। এই ভেন্ডিং মেশিনটি দিনে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন চালু থাকে এবং এটি একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্পর্শবিহীন প্রক্রিয়া।
পেমেন্ট করা যাবে, ইউপিআই, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড বা নেট ব্যাঙ্কিংয়ের এই প্রক্রিয়ায়, সিস্টেমটি খালি সিলিন্ডারটি রেখে একটি ভরা সিলিন্ডার দেয়। উল্লেখ্য যে, লোহার সিলিন্ডারের পরিবর্তে এই এলপিজি এটিএম কম্পোজিট সিলিন্ডার সরবরাহ করে, যা প্রচলিত সিলিন্ডারের চেয়ে অনেক হালকা। যেখানে গ্যাসসহ একটি সাধারণ গ্যাস সিলিন্ডারের ওজন ৩১ কেজি, সেখানে এই নতুন ফাইবার-ভিত্তিক সিলিন্ডারগুলোর ওজন প্রায় ১৫ কেজি।
এই এলপিজি এটিএম মেশিনটির ধারণক্ষমতা প্রায় ১০টি গ্যাস সিলিন্ডার। এতে এমন একটি ব্যবস্থাও রয়েছে যা মেশিনে এলপিজির মজুত কমে গেলে নিকটবর্তী গ্যাস এজেন্সিগুলোকে সতর্ক করে দেয়, ফলে সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত হয়। বিপিসিএল-এর প্রথম এলপিজি এটিএম-এর লক্ষ্য হল দেশে নতুন এলপিজি বিকল্পের প্রসার ঘটানো এবং গ্যাস এজেন্সির ওপর ব্যবহারকারীদের নির্ভরতা কমানো।




















