মুম্বই: ভারতের আর্থিক রাজধানী, বহু দশক ধরে অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত উভয় ধরনের অভিবাসীদের ঢেউ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি মুম্বইয়ে অবৈধ অভিবাসন: সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিশ্লেষণ মুম্বইয়ে বাংলাদেশের ও মায়ানমারের অবৈধ অভিবাসীদের আগমনের ফলে শহরের পরিকাঠামো ও পরিষেবার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন মুম্বই স্কুল অফ ইকোনমিক্স অ্যান্ড পাবলিক পলিসির অধ্যাপক। তাঁদের সমীক্ষা জুলাই ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত মুম্বইয়ের অভিবাসী-প্রধান এলাকাগুলি নিয়ে করা হয়েছে, যেখানে ৩,০০০-এরও বেশি ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন। সমীক্ষায় কেবলমাত্র সংখ্যাতাত্ত্বিক তথ্য নয়।
গবেষণায় বলা হয়েছে, মুম্বইয়ের ৪৩ শতাংশ জনসংখ্যা অভিবাসী, যেখানে দলিলভুক্ত অভিবাসীরা শহরের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তবে অবৈধ অভিবাসীরা নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করছে। বাড়তে থাকা অভিবাসী সংখ্যা শহরের আবাসন, পরিবহন এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে। গবেষণায় জানা গিয়েছে,”অভিবাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য জন্মহারকে দায়ী করা যায় না। বরং, অবৈধ অভিবাসনই মূল কারণ।” তিনি আরও বলেন, মুম্বই শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও শহরের পরিকাঠামোর ওপর চাপের ক্ষেত্রে এই অবৈধ অভিবাসন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গবেষণায় ধর্মীয় জনসংখ্যার পরিবর্তনকেও তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৫১ সালে মুম্বইয়ের হিন্দু জনগোষ্ঠীর অংশ ছিল ৯০ শতাংশ, যা ২০১১ সালের মধ্যে ৬৫ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে মুসলিম জনসংখ্যা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, এই পরিবর্তনও শহরের সামাজিক ও রাজনৈতিক গতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থিতি শুধু জনসংখ্যাগত চাপই তৈরি করছে না, বরং শহরের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং সামাজিক সংহতির ওপরও প্রভাব ফেলছে। মুম্বইয়ের নিয়মিত নগর পরিষেবা, যেমন পানীয় জল, বিদ্যুৎ, হাসপাতাল, স্কুল ও বাসস্থান, এই বৃদ্ধিপ্রাপ্ত জনসংখ্যাকে সুষ্ঠুভাবে মোকাবেলা করতে হিমশিম খাচ্ছে।
গবেষণায় সামাজিক দিকও গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীদের সঙ্গে শহরের আদি জনগণের বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং চাকরি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত প্রতিযোগিতা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। এই কারণে, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে সংহতি বজায় রাখা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
