
নয়াদিল্লি: আই-প্যাক (I-PAC)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্দেল (Vinesh Chandel)গ্রেফতারিকে ঘিরে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বাঁধছে। দিল্লিতে এই গ্রেফতারি এবং মধ্যরাতে আদালতে পেশ করার ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ ফাওয়া। তাঁর বক্তব্য, গোটা প্রক্রিয়াটিই একাধিক অসঙ্গতিতে ভরা এবং আইন অনুযায়ী স্বাভাবিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি।
পাহওয়ার দাবি অনুযায়ী, ভিনেশ চান্দেলকে সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিট নাগাদ গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাঁর পরিবারকে জানানো হয় যে তাঁকে পাতিয়ালা হাউস কোর্টে পেশ করা হবে। সেই অনুযায়ী আইনজীবীরা রাত ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছে যান। কিন্তু পরে জানা যায়, তাঁকে আদালতে নয়, বিশেষ বিচারকের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানেই শুনানি হবে।
আরও দেখুনঃ হুমায়ুনের ভিডিও ঘিরে নতুন বিতর্ক, মুখ খুললেন অমিত শাহ
এই ঘটনাকে অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করে পাহওয়া বলেন, “আইন অনুযায়ী গ্রেফতারের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করার সময় থাকে। তাহলে এত রাতে তড়িঘড়ি শুনানির প্রয়োজন কেন?” তাঁর মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ স্বচ্ছতার প্রশ্ন তোলে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে।
আই-প্যাক সংস্থার ভূমিকা নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন তিনি। তাঁর কথায়, আই-প্যাক একটি পেশাদার রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা, যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী কৌশল নিয়ে সাহায্য করে। “এই সংস্থার নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ নেই। তারা বিজেপি, কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন দলকে পরিষেবা দিয়েছে, যা তাদের কাজের অংশ,” বলেন পাহওয়া।
তিনি আরও জানান, ২০২০ সালের কয়লা পাচার মামলার সঙ্গে আই-প্যাকের সরাসরি কোনও যোগ নেই। সেই মামলায় ইতিমধ্যেই তদন্ত সম্পূর্ণ হয়েছে এবং চার্জশিটও দাখিল করা হয়েছে। তবুও সেই পুরনো মামলার সূত্র ধরে নতুন করে আই-প্যাকের অফিসে তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই প্রসঙ্গে ইডির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পাহওয়া। আইনজীবীর দাবি, আই-প্যাকের দুই ডিরেক্টর এই সমনকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এবং সেই মামলার শুনানি এখনও চলছে। এর মধ্যেই নতুন করে প্রতারণা, ষড়যন্ত্র এবং হিসাব জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তবে পাহওয়ার মতে, এই নতুন অভিযোগগুলিও আইনি দিক থেকে খুবই দুর্বল। তিনি বলেন, “যে অভিযোগগুলি আনা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখলে বোঝা যায় কোনও ফৌজদারি অপরাধের প্রাথমিক ভিত্তিই নেই। এগুলি সর্বোচ্চ ক্ষেত্রে আয়কর বা জিএসটি সংক্রান্ত লঙ্ঘন হতে পারে, যা পিএমএলএ-র আওতায় পড়ে না।” এই বক্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগগুলির বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

