বাগপত: যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশে বুলডোজার অ্যাকশন অব্যাহত। (Baghpat)বাগপত জেলার রাজপুর খামপুর গ্রামে একটি অবৈধ মসজিদ জেলা প্রশাসনের বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযান চলছে অবৈধ দখল ও নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে। প্রশাসনের দাবি, ওই মসজিদটি সরকারি পুকুরের জমিতে নির্মিত হয়েছিল এবং আদালতের নির্দেশ অনুসারেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজপুর খামপুর গ্রামের ওই মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ছিল। অভিযোগ উঠেছিল যে, জমিটি পুকুরের জন্য সংরক্ষিত ছিল এবং সেখানে অবৈধভাবে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে তহসিলদারের তদন্তে বিষয়টি নিশ্চিত হয়। আদালতের নির্দেশের পর প্রশাসন আর অপেক্ষা করেনি।
আরও দেখুনঃ নামাজ নয়! বিশ্ব যোগ দিবস উপলক্ষে রাস্তা জুড়ে বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার যোগাভ্যাস
সকালের দিকে ভারী পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে বুলডোজার নিয়ে অভিযান চালানো হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই অবৈধ অংশটি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে ফেলা হয়।যোগী সরকারের এই বুলডোজার অভিযান উত্তরপ্রদেশে নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবৈধ মাদ্রাসা, মসজিদ, মাজার বা অন্য কোনো ধর্মীয় স্থাপনা যদি সরকারি জমি দখল করে থাকে, তাহলে কোনো ছাড় নেই।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের স্পষ্ট নির্দেশ আইন সবার জন্য সমান। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, “এটি কোনো ধর্মীয় বিষয় নয়, বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি। যে কেউ অবৈধভাবে জমি দখল করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আগে থেকেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
ফলে আদালতের নির্দেশ মেনে অভিযান চালানো হয়েছে। এই ঘটনার পর গ্রামে সাময়িক উত্তেজনা দেখা গেলেও পুলিশের কড়া নজরদারিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গ্রামবাসীদের মধ্যে কেউ কেউ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, পুকুরের জমি দখল করে ধর্মীয় স্থাপনা তৈরি করায় গ্রামের সাধারণ মানুষের সমস্যা হচ্ছিল। বর্ষাকালে জল জমা হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিত।
অন্যদিকে, কিছু সংখ্যালঘু সংগঠন এই অভিযানের বিরোধিতা করেছে। তাঁরা দাবি করেছেন, মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে ছিল এবং এটি ঐতিহ্যবাহী। তবে প্রশাসন স্পষ্ট করে বলেছে, ধর্ম যাই হোক, অবৈধ দখল বরদাস্ত করা হবে না। উত্তরপ্রদেশে গত কয়েক বছরে এমন অসংখ্য অভিযান চালানো হয়েছে। অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে। এতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে সরকারি দাবি।


