হতে পারে দাঙ্গা! ঈদ আবহে রাজধানীর কুখ্যাত উত্তম নগরে কেন্দ্রীয় বাহিনী

নয়াদিল্লি: দিল্লির উত্তম নগর ইস্ট মেট্রো স্টেশনের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।(Eid violence) দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে দিল্লি পুলিশকে এলাকায় যথেষ্ট ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে, কারণ…

uttam-nagar-delhi-eid-tension-central-force-deployed

নয়াদিল্লি: দিল্লির উত্তম নগর ইস্ট মেট্রো স্টেশনের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।(Eid violence) দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে দিল্লি পুলিশকে এলাকায় যথেষ্ট ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে, কারণ ঈদের দিনে দাঙ্গার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনা পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে, যেখানে হোলির দিনে একটি খুনের ঘটনা থেকে শুরু হয়ে এখন ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তাপে পরিণত হয়েছে।সবকিছু শুরু হয়েছিল হোলির দিনে।

উত্তম নগরে একটি স্থানীয় বিবাদ থেকে দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়া বেড়ে যায়, যা দ্রুত সাম্প্রদায়িক রূপ নেয়। ২৬ বছরের এক যুবক তরুণকে মারধর করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকদিনের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে উস্কানিমূলক ভিডিও, বক্তৃতা এবং পোস্টার। কিছু জায়গায় ‘আক্রোশ সভা’ হয়েছে, যেখানে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক স্লোগান দেওয়া হয়েছে।

আরও দেখুনঃ বিশাল চাপে পাকিস্তান! অবিলম্বে করতে হবে সৌদির ৬.৩ বিলিয়ন ধার শোধ

এই পরিস্থিতিতে অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটস (এপিসিআর) নামে একটি সংগঠন দিল্লি হাইকোর্টে পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন (পিআইএল) দায়ের করে। তারা আদালতের কাছে দাবি করেছে যে, পুলিশ এবং প্রশাসনকে অবিলম্বে হেট স্পিচের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ঈদের দিনে হিংসা রোধ করতে হবে। আদালত গতকাল, অর্থাৎ ১৯ মার্চ, এই মামলা শুনানি করে।

চিফ জাস্টিস ডি.কে. উপাধ্যায় এবং জাস্টিস তেজাস কারিয়ার বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, পুলিশকে কোনোরকম অবহেলা করা যাবে না। এলাকায় যথেষ্ট পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করতে হবে, যাতে সবাই নিরাপদ বোধ করে। ঈদ উৎসবকে ‘আনন্দের উৎসব’ বলে উল্লেখ করে আদালত বলেছে, কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রোধ করা।আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঈদের পরেও চালু থাকবে আসন্ন রাম নবমী উৎসব পর্যন্ত।

মামলার পরবর্তী শুনানি ৬ এপ্রিল ধার্য করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশকে নোটিশ জারি করা হয়েছে, যাতে তারা আদালতে জবাব দাখিল করে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া মনিটর করতে, উস্কানিমূলক কনটেন্ট ব্লক করতে এবং যেকোনো মিছিল বা সমাবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে বলা হয়েছে।উত্তম নগর এলাকায় এখন পুলিশের ব্যারিকেড, পেট্রোলিং এবং অতিরিক্ত ফোর্স দেখা যাচ্ছে।

উত্তম নগর ইস্ট মেট্রো স্টেশনের কাছে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, কারণ এটি এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় এবং উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অনেকে বলছেন, ছোটখাটো বিবাদ থেকে এখন পুরো এলাকা অশান্তির মুখে। রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা এই পরিস্থিতিকে ‘দাঙ্গার মতো অবস্থা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, তারা হিন্দু-মুসলিম বিভেদকে উস্কে দিচ্ছে।