
দিল্লি‑নয়ডা সীমান্তে এক বিতর্কিত ঘটনার মাধ্যমে পুনরায় উঠে এসেছে ভারতের রাজধানীতে দূষণ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব। একটি গাড়ি, যার উপর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা সদস্যের (UP MLA) স্টিকার লাগানো ছিল, GRAP 4 বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের কারণে থামানো এবং জরিমানা করা হয়। গাড়িটি ছিল BS4 ডিজেল চালিত, যা বর্তমানে দিল্লিতে প্রবেশের জন্য নিষিদ্ধ। রাজধানীর প্রশাসন বর্তমানে কঠোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করছে, বিশেষ করে GRAP বা Graded Response Action Plan 4 অনুযায়ী, যা স্বাভাবিক চেয়ে বেশি দূষণের সময় কার্যকর হয়।
ঘটনাটি ঘটে দিল্লি‑নয়ডা সীমান্তে। গাড়ির চালক দাবি করেছিলেন যে এটি উত্তরপ্রদেশের একজন বিধায়কের মালিকানাধীন, তবে পুলিশ অভিযানকে থামাতে বা গাড়িকে প্রবেশ করতে বাধা দিতে পারেননি। প্রমাণ হিসেবে বিধায়ক স্টিকার থাকা সত্ত্বেও গাড়িটি নিয়ম ভঙ্গ করায় পুলিশের কাছে এটি অপরিহার্য পদক্ষেপ ছিল।GRAP 4 অনুযায়ী পুরনো ডিজেল এবং পেট্রোল গাড়ির প্রবেশ সীমিত। রাজধানী দিল্লি বর্তমানে একাধিক দূষণ সূচকের উপর নজর রাখছে, এবং দূষণের মাত্রা যদি স্বাভাবিক সীমার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে পুরনো BS4 বা তার চেয়ে পুরনো যানবাহনকে শহরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না। এটি মূলত নগরের বায়ু মানকে উন্নত করার জন্য নেওয়া হয়েছে। BS6 প্রযুক্তির গাড়ি তেলের ব্যবহারে কম দূষক নির্গমন করে, তাই রাজধানীতে এটি বাধ্যতামূলক
এই ঘটনার মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পুনরায় সামনে এসেছে—দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগে কোনো ব্যতিক্রম নেই**। এমনকি যদি যানবাহনটি একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির মালিকানাধীন হয়, তবুও GRAP 4 বা অন্যান্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে পুলিশ কোনো ছাড় দেয় না। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি **সিগনাল বা সংকেত** যে সরকার দূষণ নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
দিল্লি‑নয়ডার মতো শহরে দূষণ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। শীতকালীন মাসগুলোতে, বিশেষ করে অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত, বায়ু মান সূচক বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছায়। এই সময় BS4 ডিজেল যানবাহন চালু থাকলে বাতাসে PM2.5 এবং PM10 কণার পরিমাণ বেড়ে যায়, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতি সৃষ্টি করে। শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যাযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
এই ঘটনার মাধ্যমে যে শিক্ষা মিলেছে, তা হল আইনের শাসন প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মর্যাদা কোনোভাবেই হালকা করা যায় না। দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য নেওয়া কঠোর পদক্ষেপকে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একটি সুযোগ হিসেবেও দেখা যায়। এটি শুধু দিল্লির জন্য নয়, পুরো উত্তর ভারতীয় অঞ্চলের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




