
‘উত্তরাখণ্ডের উদম সিং নগর জেলায় ছুরিকাঘাতে এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র (Udham Singh Nagar violence)করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে পুরনো বিবাদ থেকে শুরু হওয়া ঝামেলা মুহূর্তের মধ্যেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পরিণত হয় এবং কিছু মুসলিম যুবক তুষারকে ছুরি মারে। এই ঘটনায় ২৪ বছর বয়সি তুষার শর্মা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতের দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি চায়ের দোকানে তুষার শর্মার সঙ্গে কয়েকজন মুসলিম যুবকের বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, পুরনো শত্রুতার জেরেই এই ঝামেলা বাধে। পরিস্থিতি দ্রুত হাতাহাতিতে গড়ায় এবং এক পর্যায়ে তুষারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পালানো এবার অসম্ভব! DRDO-র নতুন 4D রাডার 200 কিলোমিটার দূর থেকে শত্রুদের সনাক্ত করবে
এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন এই ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল করে এবং দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি তোলে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পুলিশকে কড়া ব্যবস্থা নিতে হয় এবং কার্ফ্যু জারি করা হয়েছে।
বিক্ষোভ চলাকালীন অভিযোগ ওঠে, উত্তেজিত জনতার একটি অংশ অভিযুক্তদের একটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং গোটা এলাকায় দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাতভর টহল চলছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিতে এবং শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অভিযুক্তরা এখনও পলাতক। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। খুব শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড়া হবে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দোকানপাট বন্ধ, রাস্তায় লোকজনের চলাচল সীমিত। অনেকেই বলছেন, সামান্য একটি ঝামেলা কীভাবে প্রাণঘাতী রূপ নিল, তা ভাবতেই শিউরে উঠছেন তাঁরা। মানবাধিকার কর্মী ও সমাজকর্মীদের মতে, এই ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হলে সমাজে আরও বিভাজন তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাও বিপজ্জনক বলে সতর্ক করেছেন তাঁরা।










