নয়াদিল্লি: নিট-ইউজি (NEET-UG) পুনর্পরীক্ষার ঠিক আগেই মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের ওপর কেন্দ্রের সাময়িক নিষেধাজ্ঞার জল এবার গড়াল আদালতে। সরকারি নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ। বুধবার বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপন করা হলে তিনি দ্রুত শুনানির আশ্বাস দিয়েছেন।
কেন এই নিষেধাজ্ঞা?
আগামী ২১ জুন নিট-এর পুনর্পরীক্ষা। আর এই পরীক্ষার আগে প্রশ্নফাঁস চক্র ও ভুয়ো খবরের রমরমা রুখতে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) সুপারিশে ২২ জুন পর্যন্ত টেলিগ্রামের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ (69A) ধারায় এই নির্দেশিকা জারি করেছে। এনটিএ-র দাবি, বাস্তবে কোনও প্রশ্নফাঁস না হলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো দাবির বন্যা বয়ে যাচ্ছে। “PAPER LEAKED NEET”, “Re-NEET 2026”-এর মতো বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেল পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে হাজার থেকে লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে।
বন্ধ ‘মেসেজ এডিটিং’ ফিচারও
নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের ‘মেসেজ এডিটিং’ ফিচারও বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এনটিএ জানিয়েছে, প্রতারকরা এই ফিচারের অপব্যবহার করে পুরনো মেসেজে প্রশ্নপত্রের পিডিএফ যুক্ত করছে। যেহেতু মেসেজ এডিট করলেও পুরনো সময় অপরিবর্তিত থাকে, তাই পরীক্ষার পর এই কারসাজি করে ভুয়ো প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ তৈরি করছে জালিয়াতরা।
সরব টেলিগ্রাম সিইও পাভেল দুরভ
কেন্দ্রের এই কড়া পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন টেলিগ্রামের সিইও পাভেল দুরভ। তাঁর দাবি, আসল অপরাধীদের না ধরে ভারতের ১৫ কোটিরও বেশি সাধারণ ব্যবহারকারীকে এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশনও (IFF) এই নিষেধাজ্ঞাকে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করেছে।
তদন্তে কড়া প্রশাসন
ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (I4C) ইতিমধ্যেই এই প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। আহমেদাবাদ সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্তে আটটি টেলিগ্রাম চ্যানেল এবং প্রায় দেড় কোটি টাকার জালিয়াতির হদিশ মিলেছে। অন্যদিকে, এনটিএ স্পষ্ট জানিয়েছে যে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২১ জুন নিট পুনর্পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং পরীক্ষার্থীদের কেবল সরকারি মাধ্যমেই ভরসা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



